ফকরুল আবেদিন :

প্রবাসের সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে কতজন জীবনের জালে জড়িয়ে স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলি, তা কতজন জানি? আরিফ সাকি এমনি একজন প্রবাসী৷ সোনার হরিণ ধরতে প্রবাসী হয়েছিল৷ আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে রাতদিন প্ররিশ্রম৷ সুখী পরিবারের স্বপ্ন! জীবনের সুখ শিকারের দৌড়ে আরিফ যখন ব্যস্ত,সুখের ঘরে তখন উইপোকার আক্রমণ৷ আরিফের অজান্তেই ঘরের বাঁধন কেটে দিল উইপোকা ৷ বন্ধন ছিড়ে সুখপাখি উড়ে গেলো অন্য আকাশে৷ হতাশা আরিফকে পেয়ে বসল! মাঝে মাঝে ভাবে আত্ত্বহত্যা করবে কিন্তু পারেনা ৷ কাজের মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়,সব কিছু ভুলে থাকতে চায় কিন্তু পারেনা৷ নির্ঘুম রাত তাকে ক্লান্ত শরীর আর কালো চোখ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনা ৷ এ ভাবেই কেটে গেলো ছয় মাস৷ বিরহের মাস বড় দীর্ঘ হয়… ছয় মাস তার মনে হয়, ছয় বছর! অপ্রত্যাশিত ভাবে উড়ে যাওয়া পাখি আরিফের জানালায় হঠাৎ হাজির৷ বিরহের পুঞ্জীভূত মেঘ যেন আর থামিয়ে রাখা গেলোনা,বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ল আরিফের চিবুক বেয়ে৷

সবকিছু ভুলে আরিফ পাখিকে বুকে জড়িয়ে নেয় ৷ স্বপ্ন দেখে আবারও সুখের ঘর বাধবে৷ কিন্তু না! সময় যায় আরিফ স্বাভাবিক হতে পারেনা৷ সুখপাখি তার বুকের মাঝে তবুও নিজেকে সুখী ভাবতে পারেনা৷ নতুন এক হতাশায় নিমজ্জিত করে নিজেকে ৷ বুকের মাঝে পাখির স্পর্শ তার অসহ্য মনে হয়! মনের মাঝে পাখির বিগত ছয় মাসের অন্যের আকাশে উড়ার স্মৃতি তাকে তাড়িত করে বেড়ায়৷ পাখির উপস্তিতিই তার নতুন এক যন্ত্রনা! নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে রাখতে মাঝে মাঝে ভাবে গল্প উপন্যাস লিখবে কিন্তু শব্দ বিন্যাসে নিজের লেখা তার নিজেরই পছন্দ হয়না৷ লেখে আর ছিড়ে ফেলে! সিদ্ধান্ত নিল সাহিত্যিক হওয়া তার কাজ নয়,সাংবাদিক হবে ৷ কিন্তু কোনো পত্রিকার সাথে সে সংযুক্তি হতে পারেনা৷ ডিজিটাল যুগ,ফেসবুক এখন বিকল্প সংবাদ মাধ্যম ৷ সিদ্ধান্ত নিল ফেসবুকে একটা একাউন্ট ওপেন করে নাম দিবে,” দৈনিক পরশ্রীকাতরতা”৷ যে কথা সেই কাজ! কাজ শুরু হয়ে গেলো৷ তার “দৈনিক পরশ্রীকাতরতা” পেজে প্রতিদিন সংবাদ টুইট আর প্রতিপক্ষের গীবত বয়ান চলিতে লাগিল ৷ কিন্তু কিছুতেই আরিফ সুখী হতে পারছেনা। তার দৈনিক পরশ্রীকাতরতা ফেসবুকে সব মিলিয়ে লাইক এক বা দুই কমেন্ট বক্স শূন্য ! অথচ তার পরিচিত বন্ধু প্রতিপক্ষের ফেসবুক টুইটে কত লাইক কমেন্ট ৷ তার মন খারাপ হয়ে যায় ৷ তার প্রতিপক্ষ কত সহজে সাংবাদিক হয়ে গেলো ৷

বাংলাদেশে টিভিতেও সরাসরি রিপোর্ট করছে ৷ মনে মনে ভাবে,”আমার কি তাহলে সাংবাদিক হয়ে উঠাও হবেনা?” এমন সময় প্রবাসী কমুনিটির কুসংঘের নেতা শয়তানের দূত হয়ে হাত বাড়ালো আরিফের দিকে ৷ আরিফকে কুসংঘের সদস্য করে সাংবাদিক বানানোর প্রতিশ্রুতি দিল কুসংঘের নেতা ! আরিফ নিজের কাছে শুকরিয়া করল, “যাক শেষ পর্যন্ত আমি সাংবাদিক হতে চলছি “৷ কিন্তু কুসংঘের দলপতি তাকে একটা শর্ত দিল,”তাকে প্রতিপক্ষের চরিত্র হরণের জন্য রটনা লিখতে হবে ৷ আরিফ সব শর্তে রাজি …. আরিফ সাকির শুরু হলো চটি সাংবাদিকতা ৷ আরিফ সাকির মনে এখন সাফল্যের বাতাস অনুভব করে ৷ বৈকল্য মনে সফল চটি সাংবাদিক আরিফ সাকির কুসংঘের দলপতির নেতৃত্বে হতাশার জীবনের অবসান হলো ৷ কিন্তু এতো সফলতার পরেও আরিফের নির্ঘুম রাত কাটে,পাখির উড়ে যাওয়া দুঃস্বপ্ন তাকে তুসের আগুনের মত পুড়িয়ে মারে প্রতি রাতে৷