জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের দুই সদস্য বাংলাদেশে এসেছেন। রোববার চার দিনের সফরে গ্রুপের ভাইস চেয়ার গ্রাজিনা বারানোস্কা ও আনা লোরেনা ডেলগাদিলো পেরেজ ঢাকা পৌঁছান।
প্রায় এক যুগ ধরে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্স অর ইনভলেন্টারি ডিসাপিয়ারেন্স– ডব্লিউজিইআইডি। ২০১৩ সালের ১২ মার্চ সফরের জন্য প্রথম চিঠি দিলেও সাড়া দেয়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এর পর একাধিকবার অনুরোধ করলেও রাখা হয়নি। ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল শেষবার সফরের অনুমতি চেয়েছিল ডব্লিউজিইআইডি। কিন্তু দেয়নি তৎকালীন সরকার।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের। এর পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানালে সাড়া দেয়। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এলো গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ। ১৮ জুন প্রতিনিধি দলের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা যায়, সফরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র সচিব, গুম কমিশনের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া নীতিবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন দুই সদস্য।
ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, প্রতিনিধি দল এবার গুমের ঘটনা তদন্ত করবে না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তার ভিত্তিতে সুপারিশ করবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদে সই করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য আন্তর্জাতিক ‘গুম প্রতিরোধ দিবস’-এর এক দিন আগে ৭৬তম দেশ হিসেবে চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গুমবিরোধী সনদ গৃহীত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের গুমবিরোধী সনদে যুক্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ওপর চাপ ছিল। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে সনদে যুক্ত হওয়া নিয়ে বরাবর অনাগ্রহ দেখিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এ সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে। অর্থাৎ তারা অভ্যন্তরীণ আইনের অংশ হিসেবে নিয়েছে। আর ভারত শুধু সই করেছে।
ডব্লিউজিইআইডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও ৭০টি গুমের ঘটনা অনিষ্পত্তি রয়েছে। জাতিসংঘ মোট ৮৮ ব্যক্তির গুমের বিষয়ে প্রকৃত অবস্থা জানতে চেয়েছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন আটক ও ১০ ব্যক্তি মুক্ত অবস্থায় আছেন।
More Stories
একাত্তর আগে, বাকি সব পরে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির...
জুলাই বিপ্লবে পুলিশ হত্যাসহ সব হত্যার বিচার হবে: আইজিপি
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে পুলিশ সদস্য হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।...
ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে গেলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের আকাঙ্খা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের ‘সাধ এবং সাধ্যে’র মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি বিশ্বাস...
পাকিস্তানপন্থি সেই অপশক্তি নতুন চেহারায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি-মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও পাকিস্তানপন্থি অপশক্তি নতুন রূপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।...
জুলাই আন্দোলনে আহত-শহিদ পরিবারের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেবে সরকার
জুলাই আন্দোলনে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থী এবং শহিদদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক...
১৭ বছর লড়াইয়ের পরও বহিষ্কার, মুখ খুললেন রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া...
