জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সিএনএনের সাংবাদিক কাইটলান কলিন্সকে ভর্ৎসনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাম্পের চোখে-মুখে রাগের ছাপ ছিল।
ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে, কলিন্স ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই সাংবাদিকের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, কলিন্স সেখানে উপস্থিত থেকে ট্রাম্পের কার্যক্রম কভার করা উচিত নয়।
জবাবে কলিন্স জানান, হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের বাইরে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ স্বাধীনভাবে সিএনএনকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কভার করার অনুমতি দিয়েছে। এর পরও ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর জেরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও হোয়াইট হাউসের প্রেস কভারেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কলিন্সকে আরও আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি তাকে ‘থার্ড রেট রিপোর্টার’ এবং সিএনএনকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার প্রেসিডেন্সি কভার করার বিষয়ে এক ধরনের ‘আসক্তিতে’ ভুগছে। তিনি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন এবং তাদের ‘অসুস্থ’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের ভিডিও কভারেজ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো।
সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ, এনবিসি ও সিএনএনসহ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওই তিন সংবাদমাধ্যম। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের চলমান বিরোধে এই নিষেধাজ্ঞাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলে থাকা নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণ করে এবং তা বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ভাগাভাগি করে।
সিএনএনসহ ৫টি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সরকার সম্পর্কে নির্ভুল ও স্বাধীন তথ্য পাওয়া জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। কোনো প্রশাসন কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় সেটির কার্যক্রম সীমিত করা উচিত নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
More Stories
ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হয়তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ‘হয়তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম...
নোবেল পুরস্কারকে অপমান করা হয়েছে, লেখা শেয়ার করলেন ট্রাম্প
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের নোবেল কমিটি তার নাম...
নাভি পিল্লের নোবেল জয়ের পরপরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।...
সাক্ষাৎকারে মিথ্যা তথ্য দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে
ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে সত্য তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া...
ট্রাম্পের মেয়াদে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। একই সময়ে বিদেশিদের ভিসা...
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা পেতে সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি; বাড়তে পারে কড়াকড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক বা ভিসার আবেদনকারী বিদেশি সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) অ্যাকাউন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে...
