কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের কাছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।
এ সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন সার্জিও গর। সফরের সময় সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলও ছিল।
এসময় উপস্থিত রোহিঙ্গা যুবক আহমদ উল্লাহ বলেন, বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে দ্রুত আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই। শরণার্থী হিসেবে আর জীবন কাটাতে চাই না।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাকে প্রথমবারের মতো ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিসীম।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সংগঠক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সেখানে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে সার্জিও গরের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ১টার দিকে উখিয়ায় পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করেন। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও ছিলেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানায়, প্রতিনিধি দল উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ৮ ওয়েস্ট (৮ ডব্লিউ) ও ৬ নম্বর ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটির কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩ দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। সফরের শেষ দিন শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তার বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
More Stories
ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বৈঠক, যেসব আলোচনা হলো
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস...
আত্মগোপনে থাকা নানকের দেশছাড়ার বর্ণনা: আনন্দবাজার
জাহাঙ্গীর কবির নানক তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট...
জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের...
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড় ঘিরে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে...
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ ও...
হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল...
