জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। ম্যাকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে তারা গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার বেলা ২টায় বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। এটা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাঙ্গার পরে পুরো রাস্তা ভাঙ্গা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেল লাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না। যেখানেই বৈষম্য সেখানেই আমরা আওয়াজ তুলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবার গর্জে উঠব, অধিকার আদায় করেই ছাড়ব। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নচেৎ ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘জনগণের সাথে আর কত ধোকাবাজি করবেন, প্রয়োজনে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। জুলাই আন্দোলনে অনেক মানুষ জীবন দিয়েছে তবুও মাথা নত করেনি। আসল ফ্যাসিবাদকে যখন জনগণ পাত্তা দেয়নি ডামি ফ্যাসিবাদকেও দিব না। জনগনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সাফ কথা, যেখানে জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে, সেটা যদি না মানেন তাহলে আপনাদের সরকার হিসেবে মানা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে থাকতে চাই না। আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে চাই। আমরা রক্তে আগুন লাগাতে চাই না। আর পরীক্ষা নিবেন না। আমাদের সন্তানরা পরীক্ষিত। ২৪-এর ঐতিহ্যের কথা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনগণের রায়ের ভোটে আপনারা সম্মান প্রদর্শন করুন। বৈষম্য আমরা মেনে নিব না। সময় থাকতে ভাল হয়ে যান। তেলের দাম, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সকল কিছুর দাম বেড়েছে। সবকিছুর দাম বাড়িয়ে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন। হাতে চিড়া-মুড়ি নিয়ে আবারও লড়াই করতে হবে অধিকার আদায়ের জন্য।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন আর এখন উল্টে গেছেন। ৫ আগস্টের পর তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে চলে গেছেন। এখন তারা ৩১ দফার কথা বলেন না, তারা সংস্কারের কথা অস্বীকার করে এখন সংশোধনের কথা বলছেন। ৩১ দফার প্রথম দফাই ছিল সংস্কার, আর এখন তারা বলছেন উল্টোকথা। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলছি-নাটক কম করেন পিও। সাধারণ মানুষের কোনো কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়নি, বরং দলীয় কর্মীদের চাদাবাজি নিশ্চিত হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা শেখ হাসিনার বিচারসহ সুশাসন নিশ্চিত করব।’
More Stories
ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বৈঠক, যেসব আলোচনা হলো
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস...
আত্মগোপনে থাকা নানকের দেশছাড়ার বর্ণনা: আনন্দবাজার
জাহাঙ্গীর কবির নানক তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট...
জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের...
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড় ঘিরে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে...
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ ও...
হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল...
