Read Time:5 Minute, 36 Second

লস এঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট লস এঞ্জেলেস-কে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ না জানানোকে কেন্দ্র করে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান হয়েও কনস্যুলেট দলীয় বিবেচনায় আমন্ত্রণ তালিকা প্রস্তুত করেছে—যা শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করার শামিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদুল মাহমুদ জামি বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলীয় যুদ্ধ ছিল না। আমরা কেউ কোনো দলের জন্য যুদ্ধ করিনি—দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলাম। আজ সেই মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত করা হচ্ছে—এটা চরম অপমান।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের যেকোনো সরকারের বিভাজনমূলক রাজনীতিকেও বর্তমান পরিস্থিতি ছাড়িয়ে গেছে—“এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, লস এঞ্জেলেস কনস্যুলেট সরকারী অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান, যার দায়িত্ব দল, মত, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে সমানভাবে সেবা প্রদান করা। অথচ গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কোনো ভেদাভেদ ছিল না—সেই চেতনাকে উপেক্ষা করে যদি দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তবে তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সামিল।
বৃহত্তর লস এঞ্জেলেস এলাকায় বসবাসরত প্রায় ২৫-৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার অনেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। তবুও তাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো কনসাল জেনারেলের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, ১৯৯৪ সালে এই কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার পর গত তিন দশকে এই প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়ভাবে চিহ্নিত করে এমন অবমাননাকর আচরণ করা হলো।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্বাক্ষরকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছেন খালেক সরদার, আবদুর রব মিয়া, আবু হোসেন মন্জু, জাহেদুল মাহমুদ জামি, এহসানুল হক কায়সার, মজিবর রহমান খোকা, নূর বাবুল, আবেদ মনসুর, মোফাজ্জল হোসেন, মোতালেব হোসেন, নোমান মিয়া, মোশারফ হোসেন খান (স্বাধীনতা দিবস পদকপ্রাপ্ত), মাহবুব আলম চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, হাফিজউদ্দিন দেওয়ান, মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, খোরশেদ আলম নবু, আব্দুর রবসহ আরও অনেকে।
প্রবাসে বসেও যারা দেশের স্বাধীনতার স্মৃতি ও মর্যাদা বহন করে চলেছেন, তাদের এমন অবমাননা ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে পারছে, নাকি প্রবাসেও বিভাজনের রাজনীতি নতুন মাত্রা পাচ্ছে?
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধ কোন দলের নয়, আমাদের জাতির এবং মুক্তিযোদ্ধা আমাদের জাতীয় বীর।” লস এঞ্জেলেসের মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন তারেক রহমানের এই বক্তব্য ক্ষমতাসীন দলের মানুষ অনুসরণ করবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ গেলো সুনামগঞ্জের ৫ যুবকের
Close