অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। আমি যতদিন আছি নিশ্চিত থাকেন, দেশের অনিষ্ট হবে এমন কোনো কাজ হবে না।
রোববার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
রাতে এই বৈঠকের আলোচিত বিষয়গুলো জানাতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সেখানেই এসব কথা জানান প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব জানান, পার্টির শীর্ষ নেতারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমরা যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছি, বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছি- এসব উদ্যোগে দলীয় নেতারা সম্পূর্ণভাবে একমত এবং সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার পাশে থাকবেন।
নিশ্চিত থাকেন, দেশের অনিষ্ট হয় এমন কোনো কাজ হবে না : ড. ইউনূস
নির্বাচন ৩০ জুনের ওই পারে যাবে না : প্রেস সচিব
তিনি বলেন, আরও অনেকগুলো বিষয়ে কথা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে, সংস্কারের বিষয়ে কথা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আবারও জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করবেন। ৩০ জুনের ওই পারে যাবে না। এতে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লিডাররা প্রফেসর ইউনূসকে সমর্থন জানিয়েছেন। সংস্কার-বিচার-নির্বাচনের জন্য যে কাজ শুরু করা হয়েছে তার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। এসব কাজে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
প্রেস সচিব জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ড. ইউনূস বলেছেন- দেশ বর্তমানে একটি বড় ধরনের সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল নানা চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে এবং বিভাজন কাটিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে, তা যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারে- এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সব পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে সাহস পেয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আবারও জানিয়েছেন ইলেকশন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ জুনের পর কখনোই যাবে না। এতে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রেস কনফারেন্সের শেষ পর্যায়ে শফিকুল আলম বলেন, আমাদের তিনটি বড় কাজ হচ্ছে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। প্রথমে সংস্কার করতে পারলে ইলেকশনের বিষয়ে সকলের আস্থা পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (২৪ মে) রাতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
More Stories
পাকিস্তানে ১৪ বছর পর নামল বাংলাদেশের বিমান, ওয়াটার স্যালুটে অভ্যর্থনা
পাকিস্তানের মাটিতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নামল বাংলাদেশের বিমান। পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দ্য ডনের খবর অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ...
নির্বাচিত হলে পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোট, এই ঐক্যকে নির্বাচিত...
এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
নতুন রাজনৈতিক দল ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে...
ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন : তারেক রহমান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সঙ্গে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান...
গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে...
জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: মুফতি রেজাউল করিম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ‘জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগুচ্ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে...
