সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, যারা সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো ও বিতর্কিত করার চেষ্টা যারা করছে, তারা মূলত আরেকটি এক-এগারো ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা সেনাবাহিনীকে উস্কানি দিয়ে আরেকটি ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিন তৈরি করতে চায়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণকে বলবো এই ফাঁদে আপনারা পা দেবন না। এক-এগারো এলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এদেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণ। সুতরাং কোনোভাবেই আরেকটি এক-এগারো বাংলাদেশে আনা যাবে না।
রাশেদ বলেন, সেনাবাহিনী ভূমিকা না রাখলে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো সম্ভব হতো না, কোনো গণঅভ্যুত্থানও হতো না। যখনই সেনাবাহিনী বন্দুকের নল আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্ট পুলিশের দিকে তাক করেছে, তখনই হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা সরকারের নেই’- প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্য প্রত্যাহার ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ড. ইউনূস তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে মনে করবো- তিনিও আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে পারেননি। চোরগুলো (আওয়ামী লীগ নেতারা) যখন পালিয়ে গেছে, তখনই তারা অপারেশন ডেভিল হান্ট ঘোষণা করেছে। একটা ডেভিলও ধরা পড়েনি।
ডেভিল সাবের ও মান্নানকে দুজন উপদেষ্টা জামিন করিয়েছেন। তারা হলেন, উপদেষ্টা আদিলুর রহমান শুভ্র ও রেজওয়ানা চৌধুরী। এখন শোনা যাচ্ছে- এই সাবের নাকি ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগের সভাপতি হবেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যারা করেছে, তাদের আবার কিসের ক্লিন ইমেজ? আমরা তারপরও বলেছি, যারা সাধারণ ও নিরীহ ছিল, যারা সরাসরি ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালইনি, তাদের ওপর আমরা জুলুম করবো না। গণহত্যার বিচারের পর আমরা তাদের ছাড় দেবো, মাফ করবো। কিন্তু গণহত্যার বিচার শেষ হওয়ার আগে যতই ক্লিন ইমেজ হোক না কেন, বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগের নামে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। যারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে আসবে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। প্রয়োজনে যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) ঘেরাও করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য করা হবে।
গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিলুজ্জামান প্রমুখ।
More Stories
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি কমতে পারে ১.২ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে পড়তে পারে। ফলে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২...
‘জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে...
সংসদে হান্নান মাসউদ : সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিএনপি কি আওয়ামী লীগের মতো হয়ে উঠছে
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬ ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সংসদ সদস্য হান্নান...
বাংলাদেশ ব্যাংক-বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় নিয়োগের সমালোচনায় রুমিন ফারহানা
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে...
হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন, যা বলল পুলিশ
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরুদ্দেশ থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরী দেড় বছরের বেশি সময় পর গ্রেফতার হয়ে গেলেন কারাগারে। সাবেক এই...
দিল্লি পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের রাজধানী...
