পারিবারিক অবস্থা, সামাজিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কম-বেশি সবাই মানসিক চাপ, অস্থিরতা, চাপা হতাশা, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এসব অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি যেনো এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিজাব পরা নারীদের সুসংবাদ দিয়েছে মার্কিন গবেষকদল।
ইসলামের বিধি মেনে মাথা-চুল ঢেকে রাখায় কর্মস্থল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্নভাবে হেয় বা হেনস্তার শিকার হয়ে থাকেন অনেক নারী। এর পরেও অনেক নারী-তরুণী এসব বাধা-বিপত্তিকে জয় করে শালীন সাজে প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে থাকেন। এবার এসব মর্যাদাশালী ও শালীন নারীদের সুসংবাদ দিলেন মার্কিন গবেষকরেরা। তারা জানিয়েছেন, যেসব নারী নিয়মিত হিজাব পরে থাকেন তারা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত বা হতাশায় ভোগেন না। তারা অনেক বেশি উজ্জ্বীবিত ও প্রাণবন্তভাবে জীবনযাপন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ সোশ্যাল ওয়ার্কের অধ্যাপক এবং ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার রিলিজিয়ন অ্যান্ড আরবান সিভিল সোসাইটির গবেষণার প্রোগ্রামের সিনিয়র অনাবাসিক ফেলো ডেভিড আর হাজ এমন দাবি করেছেন। তিনি আধ্যাত্মিকতা, ধর্ম এবং সংস্কৃতি বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নিপীড়ন ইস্যুতে কর্মশালা পরিচালনা করে থাকেন।
গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমিসহ আমার কয়েকজন সহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিম নারীদের সঙ্গে কথা বলি। পর্দা বা হিজাবের সঙ্গে বিষণ্নতার কোনো সম্পর্ক আছে কী না তা আমরা খতিয়ে দেখেছি। হিজাব পরার সঙ্গে নারীর বিষণ্ণতার কোনো ধরনের সম্পর্ক আমরা খুঁজে পায়নি। তবে আমরা বিপরীত অবস্থান খুঁজে পেয়েছি। যেসব মুসলিম নারীরা হিজাব পরে থাকেন তাদের মধ্যে খুবই কম মাত্রায় বিষণ্নতার উপসর্গগুলো দেখা গেছে। আমরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছি, হিজাব বা বোরখা আদতে মুসলিম নারীদের বিষণ্নতা থেকে সুরক্ষা দেয়।
মুসলিম নারীদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনায় আমাদের ফলাফল অনেক বেশি পরিপূর্ণতা পেয়েছে। মুসলিম নারীদের পর্দা বা হিজাব পরা থেকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের লঙ্ঘন। জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ-১৮ তে স্পষ্টভাবে সব মানুষকে যেকোনো পরিবেশে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যে নারীরা হিজাব পরাকে সাবলিলভাবে বেছে নিয়েছেন তারা তাদের সেই মৌলিক অধিকারকে সহজভাবে প্রকাশ করার অধিকার পাচ্ছেন।
এদিকে, গবেষকদলকে নিজেদের মতামত দিয়েছেন এমন একাধিক নারী জানিয়েছেন, হিজাব পরলে আমরা নিজেদের অধিনস্ত মনে করি না। আমরা বরং নিজের মুক্ত বা স্বাধীন মনে করি। এর মাধ্যমে আমাদের আত্মিক অবস্থায় উন্নয়ন হয়। শালীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার মধ্যে আমরা সম্মানবোধ করি। নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে উপস্থাপন করে আত্মতৃপ্তি পাই। এর মাধ্যমে যেকোনো পরিবেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদাকর সম্পৃক্ততা আমরা অনুভব করি। সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া সংস্কৃতিকে এড়িয়ে নিজেদের ধর্মীয় চর্চা স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার চর্চা করতে পারি।
More Stories
বন্ধুত্ব টেকেনি মোদির, ভারতের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করছেন ট্রাম্প
বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তাঁর বন্ধু। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিনেতা মোদি, তাঁর নেতাকর্মী...
ট্রাম্প-নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে যা বললেন হিলারি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ‘বোকামিপূর্ণ ক্ষমতা’ প্রদর্শন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক...
৩০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় প্রায় তিন শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭...
‘রমজান মুবারক’, যতদিন প্রেসিডেন্ট আছি আপনাদের পাশে থাকব: ট্রাম্প
সারা বিশ্বের মুসলমানদের রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রমজানের পবিত্রতা ও গুরুত্বকে স্বীকৃতি জানিয়ে হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার (২৭...
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন সংস্থার
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম...
ড. ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ইলন মাস্ক, পাশেই ছিলেন ট্রাম্প
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও এক্স (সাবেক টুইটার) এর মালিক ইলন...