বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সুন্দর-শান্তিময় আবাসস্থল নির্মাণে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, শিশুদের জন্য আবাসস্থল করতে না পারায় দায় আমাদের। আমরা যারা এদেশ স্বাধীন করেছিলাম, লড়াই করে-যুদ্ধ করে ওইসময়ে যারা কথা দিয়েছিলাম যে, এই দেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব, এই সমাজ এই রাষ্ট্রকে আমরা একটা সহনশীল, উদার রাষ্ট্র গঠন করবো। কিন্তু আমরা সেটা পুরোপুরিভাবে করতে পারিনি। আমরা নিজেদের মধ্যে দলাদলি করেছি, কোন্দল করেছি, বিভক্ত হয়েছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমীর উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১১তম জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলা কুঁড়ি-২০১৯’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় মির্জা ফখরুল নিজ হাতে শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশে ২২ হাজার ক্ষুদে শিল্পী বাছাইপর্বে অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৭৬ জন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘স্বাধীনতার এই ৫০ বছরের আমাদের শিশুদের জন্য সত্যিকার অর্থে একটা ভালোবাসার দেশ, একটা প্রেমের দেশ, একটা স্বপ্নের দেশ নির্মাণ করতে পারিনি। নিজের কাছে একটা ঘৃণা আসে, ধিক্কার আসে যে, আমরা সেটা করতে পারিনি। আমরা আমাদের শিশুদের জন্য সেই আবাসস্থল তৈরি করতে পারিনি, যেখানে তারা নিরাপদে গড়ে উঠবে মানুষের মতো। সেখানে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসা, শান্তিময় একটা জগত তৈরি করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘সকলের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নেই, চেষ্টা করি, আমরা আমাদের শিশুদের জন্যে একটা সত্যিকার অর্থেই একটা শান্তিময় নিরাপদ একটা পৃথিবী গড়ে তুলি, একটা জগৎ গড়ে তুলি। আসুন আমরা সবাই মিলে এই বাংলাদেশটাকে সত্যিকার অর্থেই হাসি-গান আর ফুলর দেশ গড়ে তুলি। এটাই হোক আমাদের লক্ষ্য।’

এ সময় শিশুদের উন্নয়ন ও বিকাশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা। টেলিভিশনে ‘নতুনকুঁড়ি’ অনুষ্ঠান চালুর কথা তুলে ধরে তারা বলেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলো নতুনকুঁড়ি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অনেক অনেক শিল্পী নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। অনেকে রাজনীতি অঙ্গনে গিয়ে মন্ত্রীও হয়েছেন। এটা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তারপরেই জিয়া শিশু একাডেমী ও শাপলাকুঁড়ি প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শিক্ষায় অধ্যক্ষ সেলিনা আখতার, স্বাস্থ্য সেবায় অধ্যাপক হাসিনা আফরোজ, সঙ্গীতে এএসএম শফি মন্ডল, শিল্পায়নে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণে খান মনিরুল মনি, জনপ্রতিনিধি মনিরুল আলম সেন্টু ও আদর্শ মা মৌসুমি সাহাকে ‘কমলপদক-২০২০’ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সংগঠনের নির্বাহী মহাপরিচালক এম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে এবং মাশুক সিদ্দিকী ও নওশিন রথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে একাডেমীর পৃষ্ঠপোষক এলবার্ট পি কস্টা, কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম, জিনাত রেহানা, সামিনা আখতার সম্পা ও সুলতানা জামান জ্যোস্না বক্তব্য রাখেন।