আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই ইন্টারনেট থেকে আল জাজিরার তথ্যচিত্রের ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার জন্য গুগল ও ফেসবুককে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি।

সংস্থাটির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই ফেসবুক এবং গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, এটা সরিয়ে ফেলার জন্য। তারা তাদের ওয়েবপেজ থেকে এটা সরিয়ে ফেলবে। কারণ এটা সরানোর ক্ষমতা বিটিআরসির নেই, এটা তাদেরই সরাতে হবে।’

সুব্রত রায় বলেন, ‘এ ধরনের কন্টেন্ট সরানোর জন্য তাদের কিছু কম্যুনিটি স্ট্যান্ডার্ড আছে। তারা বলে যে, আদালতের নির্দেশ হলে তারা কাজটা করতে পারবে। সেজন্য আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে তাদের জানিয়ে দিয়েছি এবং অপসারণের জন্য তাদের অনুরোধ করেছি।’

অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই প্রতিবেদনের ভিডিওটি সরানোর ব্যাপারেও বিটিআরসি যোগাযোগ করছে বলে তিনি জানান।

এর আগে বুধবার বিকালে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সবধরনের সামাজিক মাধ্যম থেকে অবিলম্বে সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কাতারভিত্তিক টেলিভিশনটির এই প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইস্যুটি দেশের উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

হাইকোর্টে একটি রিট মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এনামুল কবির ইমন বলছেন, দেশে এবং বিদেশে ইন্টারনেট থেকে এই প্রতিবেদনের ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে। এটি সরিয়ে ফেলার জন্য প্রয়োজনে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে, সেটা করার জন্যও আদালত আদেশ দিয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেনস’ নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আল জাজিরা। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের দাবিও ওঠে কোনো কোনো মহল থেকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ হিসেবে বর্ণনা করে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ওই প্রতিবেদনকে বর্ণনা করা হয় ‘সাজানো এবং দুরভিসন্ধিমূলক’হিসেবে।

এরই মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ এবং ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেনস’ প্রতিবেদনটি ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের সুপ্রিম। কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন। রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।