‘বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া ডিজিটাল কনক্লেভ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। এটি দুই দেশের শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে দূতাবাসের কর্তৃক আয়োজিত প্রথম উদ্যোগ।

এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ দু’দেশের তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) জনাব শাব্বির আহমদ চৌধুরী তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিকালে রফতানির অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ) কথা উল্লেখ করে এই অনন্য সুযোগটি গ্রহণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।

কৈক্সিমা ও কপিটার চেয়ারম্যান হুয়ার্ড জুং বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির স্বমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া মোটরযান, যন্ত্রপাতি, জাহাজ নির্মাণ, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্য এবং টেক্সটাইল শিল্পে পরিবর্তন এনেছে। এই প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে এ জাতীয় শিল্প বিকাশে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি জনাব সৈয়দ আলমাস কবির তার বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বেসিসের কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি দু’দেশের তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় ও দ্বিপাক্ষিক সফরের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিস ফারহানা রহমান বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বিশেষত ই-গভর্নেন্সের উপর আলোকপাত করেন। তিনি ডিজিটাল ডিভাইস তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক বিনিয়োগের আহ্বান জানান- যা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে বিবেচিত।

এরপর, অংশগ্রহণকারী কোরিয়ান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্যে রাখেন। তারা সংস্থাসমূহের চলমান উদ্যোগসমূহ নিয়ে আলোচনা করবার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় গবেষণার উপর জোর দেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অন্যান্য খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনলাইনে তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে আলোচনা করেন।