দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ পালন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে দূতাবাস একটি অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী এবং জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির। আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো অংশগ্রহণ করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় অধ্যাপনারত বাংলাদেশের দুজন সহকারী অধ্যাপক যথাক্রমে-Ghent University Global Campus-এর সহকারী অধ্যাপক কেশব কুমার অধিকারী ও Kyungdong University Global Campus-এর সহকারী অধ্যাপক নুর আলম।

মুখ্য আলোচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির তার আলোচনায় জাতির পিতার কালানুক্রমিক ইতিহাস, জাতির পিতার পাকিস্তান কারাগারে থাকাকালীন বর্ণনা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচক কেশব কুমার অধিকারী তার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, জাতির পিতা নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করা এবং জাতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে শিক্ষা ও জাতির বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাগ্র আগ্রহ-উদ্দীপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আলোচক নুর আলম জাতীয় জীবনে জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তার আলোচনায় উল্লেখ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি ও সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট আলোচনার পাশাপাশি সেসময়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একাগ্রচিত্তে কাজ করার আহ্বান জানান।