গত ১৫ নভেম্বর লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত লিটল বাংলাদেশ প্রজেক্টের জাতীয় স্মৃতিসৌধের ম্যুারাল উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে লস এঞ্জেলেসের কন্সাল জেনারেল তারিক মোহাম্মদকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। আর এ কারণে কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

প্রবাসে কমিউনিটির মানুষ যেখানে জাতীয়তাবোধের অনুভূতি থেকে লিটল বাংলাদেশ তথা দেশ ও জাতির ইতিহাস এবং কৃষ্টিকে তুলে ধরার জন্য অপ্রাণ চেষ্টা করছেন সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হয়েও কমিউনিটির সাথে একাত্ম হয়ে সমর্থন প্রদর্শন না করায় কমিউনিটির মানুষ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, এখানে প্রবাসী কমিউনিটি বসবাস করে বলেই এই আমেরিকার বুকে কন্সুলেট অফিস স্থাপিত হয়েছে। যদি প্রবাসী কমিউনিটি এখানে বসবাস না করত তবে কন্সাল অফিসের কোন সুযোগই থাকত না। অথচ বিশ্বের বুকে দেশকে প্রচারের জন্য যে আয়োজন তাতে কন্সাল জেনারেলের অসহযোগীতা প্রবাসীদের মনে দাগ কেটেছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ম্যুরাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও লিটল বাংলাদেশ বিউটি ফিকেশন প্রজেক্টের আহ্বায়ক কাজী মশহুরুল হুদা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর আল মামুন।
শুরুতে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন কোরিয়ান অপেরা শিল্পী এস্তেহার জিন।

(তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রপ্ত করে পরিবেশন করেন এবং ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। তাকে প্রশিক্ষণ দেন সঙ্গীত শিল্পী ও প্রশিক্ষক শাহনাজ বুলবুল)।

লাল ফিতা কেটে ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর বাবুল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদ খান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- কমিউনিটির এক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্রেটিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক বাচ্চু। তিনি কমিউনিটির সকলকে আহ্বান জানান যে, আগামীতে সকল জাতীয় দিবসগুলোতে এই স্মৃতিসৌধের সামনে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পালন করার।

তিনি বলেন, জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি গঠন করে আগামী ১৬ই ডিসেম্বর থেকে এর যাত্রা শুরু হোক।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সোহেল রহমান বাদল বলেন, ‘লিটল বাংলাদেশ অর্জনের ১০ বছর পর লিটল বাংলাদেশ বিউটিফিকেশন প্রজেক্টের সৃষ্টিশীলতা দ্বিতীয় অর্জন।’

যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্রেটিক পার্টির সভাপতি মোহম্মদ শামিম হুসাইন বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধর ম্যুারাল নতুন প্রজন্ম ও মূলধারার মানুষের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র। এটি দেশাত্মবোধের একটি অন্যতম প্রয়াস।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি নেতা ফারুক হাওলাদার বলেন, যাদের পরিকল্পনায় এই বিউটি ফিকেশন প্রজেক্ট গড়ে উঠেছে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জাহান কাজল বলেন, আজকের দিনটি একটি গর্বের দিন, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনটি।

সব শেষে সংগঠনের সভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, আয়োজনে আপ্যায়নের ব্যাবস্থা ছিল এবং সকলকে মাস্ক ব্যাহারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ছিল।

উল্লেখ্য, জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশাপাশি ইতিমধ্যে শহীদ মিনারের ম্যুরাল ও নির্মিত হয়ে গেছে। পথের উপর অঙ্কিত হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আলপনা।