আনোয়ারুল মুকুল

এবার মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি মাইক পেন্স এবং তাঁর ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের মধ্যে হওয়া ভাইস-প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট ১২ ফিট ব্যবধান মেনে ও মাঝখানে পিক্সিগ্লাসের আবরণ রেখে ধীরগতিতে শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট বিতর্কের ঠিক বিপরীত চিত্র ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট বিতর্কে। প্রেসিডেন্ট বিতর্ক যতটাই বিশৃঙ্খল ছিল ততটাই শান্ত ও সুশৃঙ্খল ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট বিতর্ক।

শুরুতেই সিনেটর কমলা হ্যারিস কোভিড-১৯ মহামারীর সঙ্কট দেখেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কতটা উদাসীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কোভিড-১৯-এর ঝুঁকির বিষয়ে আগে থেকে জেনেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ কাজ করেনি।ইতি মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন,‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, করোনাভাইরাস গুজবমাত্র। তারা (ট্রাম্প প্রশাসন) করোনার ঝুঁকিকে খাটো করে দেখিয়েছে।’ মার্কিন জনগণ আমাদের দেশের ইতিহাসে ব্যর্থতম প্রশাসনকে দেখেছে সে প্রমাণ আমেরিকা পেয়ে গেছে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও কথা মানতে রাজি নই। ট্রাম্প যদি বলেন করোনার টিকা নিতে হবে, কিছুতেই নেব না। উনি যা বলবেন, তা মানা হবে না।

বারে বারেই তাঁর খামখেয়ালী ও বেপরোয়া মনোভাব মানুষজনের সামনে চলে এসেছে। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েও তাড়াহুড়ো করেছেন ট্রাম্প, দাবি কমলা হ্যারিসের।প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে ভ্যাকসিন নিয়ে যে হুড়োহুড়ি করছেন ট্রাম্প, সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য, প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ডেমোক্র্যাট। কমলা বলেছেন, যদি ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজি বা অন্যান্য ডাক্তাররা বলেন, ভ্যাকসিন সুরক্ষিত এবং নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে তাহলে অবশ্যই সে কথা শুনব। কিন্তু যদি ট্রাম্প বলেন ভ্যাকসিন নিতেই হবে, তাহলে কিছুতেই শুনব না।

SALT LAKE CITY, UTAH – OCTOBER 7, 2020: Sen. Kamala Harris (D-Calif.) and Vice President Mike Pence participate in the vice-presidential debate at Kingsbury Hall at the University of Utah in Salt Lake City, Utah on Wednesday, October 7, 2020. The candidates were seated at a 12-foot distance and separated by plexiglass as a precaution against the coronavirus, and anyone in the audience who isnt wearing a mask will be kicked out. (Photo by Melina Mara/The Washington Post via Getty Images)

ডিবেটের মঞ্চে ট্রাম্পকে বিঁধে কমলা বলেছেন, ‘‌আমেরিকায় সংক্রমণে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের সংখ্যাও বিশ্বে সর্বাধিক। এসবের কারণই মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদাসীনতা। শুরু থেকেই সঠিক প্রোটোকল মেনে চলেননি তিনি। বাকিদেরও মানতে দেননি। তাই সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্যই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও সুরক্ষার কথা না ভেবে চটজলদি ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। ট্রাম্পের কোনও সিদ্ধান্তই মানা হবে না।’‌ বস্থাই নিয়েছে মার্কিন সরকার। এবছরের মধ্যেই এক কোটিরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ আনার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যেই টিকা আনার কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে রাজ্যগুলিকে তৈরি থাকতে বলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ভ্যাকসিন আসবে নভেম্বরের গোড়াতেই।

কমলা হ্যারিস বিতর্কে ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্নের কথা বলেছেন।কমলা হ্যারিস তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসে আরও উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প এক বছরে মাত্র ৭৫০ ট্যাক্স প্রদান করেন। তিনি আরও মন্তব্য করেছিলেন যে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন মিত্রদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বিশ্বজুড়ে স্বৈরশাসকদের আকর্ষণ করেছে।

কমলা হ্যারিস আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে বলেন, ট্রাম্প-পেন্স আবার নির্বাচিত হওয়া মানে আমেরিকার জনগণের মধ্যে যাদের পূর্ব-অসুস্থতা আছে, তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ‘গ্রিন নিউ ডিল’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কমলা হ্যারিস বলেন, ট্রাম্প এ নিয়ে বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করেন না।

চলমান বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন নিয়েও হয় তর্ক। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি নির্যাতনসহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে কমলা হ্যারিস বলেন, ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সমর্থন করেন।

বিতর্কে আরো ঠায় পায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ, গর্ভপাতসহ নানা বিষয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ইউএসএ টুডে’র সাংবাদিক সুসান পেইজ।