বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ফারহান পাশা (১৮) গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) আনুমানিক ১২টায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফারহানের মাতা ফাতেমা জেহরা রিপা ৭ বছর পূর্বে দু’ছেলে ফাতিন পাশা (২২) ও ফারহান পাশা (১৮) কে নিয়ে ছেলেদের উন্নত ভবিষ্যতের আশায় এক বুক আশা নিয়ে পারিবারিক আবেদনে ইমিগ্রেন্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে এসেছিলেন। বাবা বাংলাদেশের রাজবাড়ির গর্বিত সন্তান জগনুল পাশা সদ্য অবসরে যাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। তিনি চাকুরির সুবাদে বাংলাদেশে থাকেন। ফলে শেষ বিদায়ে ছেলেকে দেখতে পাননি।
নিহত ফারহান পাশা অত্যান্ত মেধাবী ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারি এবং অত্যান্ত ধার্মিক ছিলেন। মৃত্যুকালে ফারহান পাশা রিভার সাইড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রহস্যজনক মৃত্যুর ফলে অল্প বয়সেই জীবনের পাঠ চুকিয়ে পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন।
তার ফেসবুকে একটি কবরের ছবি ছাড়া অন্য কোন ছবি প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।
৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে তার মা কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় ছেলেকে কুরআন তেলওয়াত করতে দেখেন। কিন্তু দুপুরে কাজ থেকে ফিরে ছেলের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহত ফারহানের মৃত্যুতে কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর হিসেব কেউ কিছুতেই মেলাতে পারছেন না। তার মা ফাতেমা জেহরা বাকরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ নিয়ে যায় এবং রিপোর্টে বলা হয় ফারহান পাশার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। তবে কিভাবে তার এমন অবস্থা হয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর পামডেল কবরস্থানে দুপুর ১টায় ফাহানের লাশ দাফন করা হয়।
করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
অপরদিকে, রহস্যজনক মৃত্যুর কারণকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে নানা গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু নিশ্চিত করে তখনই বলা যাবে যখণ পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট জানা যাবে।