পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্নাকে চাপা দেওয়া সেই মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করে জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ওই গাড়ি জব্দ ও চালককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ওই চালকের নাম নাইম।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক আলী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ আগস্ট সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে মাইক্রোবাসের চাপায় গুরুতর আহত হন সাইকেলআরোহী রত্না। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইক্লিস্ট সাবিনা ইয়াসমীন মাধবী জানান, রেশমা রত্না পর্বতারোহী, দৌড়বিদ এবং সাইক্লিস্ট ছিলেন। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন।

রেশমার সাইকেলটি পেছন থেকে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সেটি ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জব্দ করেছে।

২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখে অবস্থিত স্টক কাঙরি পর্বত এবং ৩০ আগস্ট কাং ইয়াতসে-২ পর্বতে সফলভাবে আরোহণ করেন রত্না। দুটি পর্বতই ছয় হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার। এরপর ২০১৮ সালে আফ্রিকার উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কিলিমানজারো ও দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের পাহাড় কেওক্রাডংয়ের চূড়া স্পর্শ করার মাধ্যমে শুরু হয় রেশমা রত্নার অভিযান। ওই বছরই মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশিতে অবস্থিত পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টিইনিয়ারিংয়ে যান তিনি। কিন্তু অ্যাডভ্যান্স বেজক্যাম্পে যাওয়ার পর তার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়। দেশে ফেরার পর সুস্থ হতে লেগে যায় দীর্ঘদিন। পরবর্তী সময়ে নিজ উদ্যোগে সফলভাবে পর্বতারোহণের মৌলিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পর্বতারোহী ও সাইক্লিস্ট উদ্যমী এই তরুণী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরি, আলোর ইশকুলের কর্মসূচি, পাঠচক্রসহ নানা উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।