কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ সড়কের চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মো. রাশেদ খান হত্যা তদন্তে ‘নিরপেক্ষ কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কারণ এই হত্যাকাণ্ডে ভারত ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের নীতি প্রয়োগের প্রতিবাদে এক সভায় এই দাবি জানান ডা. জাফরুল্লাহ।

এ সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা হত্যাকাণ্ড কী ওসি প্রদীপের ঘটনা, না এর সঙ্গে ভারতীয় ‘‘র’’ এবং ইসরাইলের “মোসাদ’’ যুক্ত আছে তার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। এই তদন্ত করার জন্য আমার মতে এই পুলিশি তদন্ত দিয়ে হবে না। একটা নিরপেক্ষ কমিশন করে সেটা করতে হবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ১০% পুলিশ অফিসার আছেন তারা প্রদীপের (সদ্য সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত প্রদীপ কুমার দাশ) মতোই। বাকিরা সজ্জ্বন। এই ঘটনার তদন্ত কমিশন না হলে এটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।

ভারতের আগ্রাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিদিন ভারত সীমান্তে লোক মারছে। আমাদের আওয়াজ নেই। অথচ নেপাল তাদের সংসদে আইন করে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের কোনো কোনো মন্ত্রী বলছেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের রক্তের সম্পর্ক। এই রক্ত তো দূষিত রক্ত। দূষিত রক্ত দিয়ে কী হবে? পরিচ্ছন্ন রক্ত দরকার। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নাই। এই দূষিত রক্ত থেকে আমাদের মুক্তি দরকার।’

সংগঠনের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতির জুনায়েদ সাকি, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ,ভাসানী অনুসারী পরিষদের নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম, গণদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, কৃষক দলের রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।