মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ কেলেঙ্কারির প্রথম মামলায় তাকে এই কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাকে ২১ কোটি রিঙ্গিত (৪১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচারক মুহাম্মদ নাজলান মুহাম্মদ ঘাজালি এ রায় ঘোষণা করেছেন।

এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা সাত দফা অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে তিনি বলেন, ‘এ মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে দেখা গেছে, প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অভিযুক্তকে দোষী মনে করি এবং সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করছি। বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে। সবগুলো ধারায়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।’

এরপর বিকেলে প্রত্যেকটি অভিযোগের জন্য আলাদাভাবে সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত স্থানান্তরিত হয়।

তবে সবগুলো অভিযোগই বরাবরের মতো অস্বীকার করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আর্থিক উপদেষ্টারা তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯ সালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাজিব। তবে বিনিয়োগের বদলে এই তহবিলের অর্থ বিলাসী জীবনযাপন, হলিউডের একটি চলচ্চিত্র ও একটি সুপারইয়টের পেছনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে থাকা ৪২টি অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশই ওয়ানএমডিবি সম্পর্কিত। এর কেন্দ্রে আছে ওয়ানএমডিবির একটি ইউনিট এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার কোটি ২০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

এ মামলায় অর্থ পাচারের তিনটি, শপথ ভঙ্গের দায়ে তিনটি ফৌজদারি অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে এর সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নাজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে।