বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে- প্রবাস থেকে যারা দেশে যাবেন, তাদেরকে করোনা টেস্ট রেজাল্ট সঙ্গে করে নিতে হবে। উক্ত রেজাল্ট ৭২ ঘন্টার মধ্যে হতে হবে। তা না হলে এয়ারপোর্ট থেকে এয়ার লাইন্স আপনাকে ফেরত পাঠাবে। এমন ঘটনা ঘটেছে লস এঞ্জেলেস এয়ারপোর্টে।

এরিজোনা থেকে আগত বৃদ্ধ প্রবাসী বাংলাদেশী দেশে যাওয়ার জন্য করোনা টেস্ট করে কাতার এয়ারলাইন্সে গেলে, উক্ত রিপোর্ট ৭২ ঘন্টার উর্দ্ধে থাকায় তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাইদুল হক সেন্টু জানান, বাংলাদেশের সরকার কতৃক প্রদত্ত নীতিমালা অযৌক্তিক। কোনভাবেই ৭২ ঘন্টার মধ্যে টেস্ট রেজাল্ট জোগাড় করা সম্ভব নয়। সেটা প্রশাসনের বোঝা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমার অভিজ্ঞতায় কোন ভাবে ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই রিপোর্ট সংগ্রহ করা সম্ভব না। যদি কেউ ২৪ ঘন্টার মধ্যে টেস্ট দিয়ে ফলাফল জানতে চান তাদেরকে ক্লিনিকে এক সপ্তাহ আগে এপোয়েনমেন্ট করতে হবে।

এদিকে প্লেনের টিকিট ও যথাসময়ে নির্দ্ধারণ করা সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক ভাবে কোভিড-১৯ টেস্ট দিলে তার ফল পেতে এক সপ্তাহ লাগে। কোনভাবেই নির্দ্ধারিত ৭২ ঘন্টার মধ্যে তা পাওয়া সম্ভব না।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অকে যাত্রী এই নিয়ম সম্পর্কে জানেনও না। ফলে এয়ারপোর্টে গিয়ে ফেরত আসতে বাধ্য হয়।

প্রবাস বাংলার পক্ষ থেকে লস এঞ্জেলেস কন্সুলেট জেনারেল অফিসে যোগাযােগ করলে তারা জানান, বিষয়টি কন্সুলেটের ওয়েবসাইডে উল্লেখ করা আছে এবং যারা আমাদের কাছে আসেন তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এ বিষয়ে কমার্শিয়াল কন্সাল আল মামুন জানান, করোনা টেস্ট পত্র এয়ারলাইন্সের দায়িত্ব নয়। এটি প্রদর্শন করতে হবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। যারা প্রদর্শন করতে পারবেন না তাদেরকে দু-সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক।

তিনি আরো জানান, ৭২ ঘন্টার বিষয়টি সরকারী আইন, আমাদের করণীয় কিছুই নেই।

বাস্তব ক্ষেত্র এয়ারলাইন্স টিকিটের সাথে টেস্ট পত্র দেখাতে চান এবং তা ৭২ ঘন্টার মধ্যে হতে হবে তা না হলে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি প্রবাসের মিডিয়াতে ব্যাপক ভাবে প্রচার না হওয়ায় প্রবাসী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যারা এখন থেকে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের উচিত হবে পূর্ব থেকে এ্যাপোয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে টিকিটের সাথে সংগতি রেখে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল নিয়ে এয়ারপোর্টে যাত্রা করবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার তার নিয়ম থেকে সরে না দাঁড়ান বা সময়সীমা পরিবর্তন না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত এটা দায়িত্বের সঙ্গে করতে হবে। না হলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।