সৌদি আরবে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। এদিকে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশটিতে বেশ কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকের কাজ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে বর্তমানে ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদিতে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ১৫৭ জন। মারা গেছেন ৬১১ জন। এর মধ্যে ২২৪ জনই প্রবাসী বাংলাদেশি। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮ হাজার ৯৬৫ জন।
এদিকে দেশটিতে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ রোগী এবং করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মনে করছে, অন্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় সেখানে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি হলেও তা অস্বাভাবিক বা আশঙ্কাজনক নয়।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৫ জন। সৌদি আরবে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। সেই অনুপাতে যে পরিমাণে বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই হার খুব একটা বেশি নয়।’
এদিকে সৌদি সরকারের হিসেব মতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মোট ২২৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৮৭ জন নিশ্চিতভাবে কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন। বাকিদের মৃত্যু সনদে কারণ হিসেবে ‘কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু’ উল্লেখিত ছিল। দেশটিতে করোনাভাইরাসে মৃতদের ১৫ ভাগই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
এদিকে সৌদি আরবে কেন, বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার লাফিয়ে বাড়ছে- তা নিয়ে এ প্রতিবেদক কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছেন।
মক্কা প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার অভাব অথবা স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতার কারণেই সৌদি আরবের বাংলাদেশিদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হচ্ছে।’
জেদ্দা প্রবাসী রফিক উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকাংশই কম দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করেন। বদ্ধ জায়গায় একসাথে গাদাগাদি করে থাকতে হয় তাদের। এরকম পরিস্থিতিতে তাদের শারীরিক দূরত্ব মানা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রায় অসম্বব।’
মদিনা প্রবাসী হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অনেকেই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে পারছেন না। অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় শ্বাসকষ্টের রোগী হাসপাতালে যেতে পারছেন না এবং চিকিৎসা না পেয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।’
More Stories
স্টুডেন্ট ভিসায় ধাক্কা, অর্ধেকের বেশি প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশি আবেদন
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটিতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার হারে ধস নেমেছে।...
বৈরুতের ১৪টি এলাকা থেকে বাংলাদেশিদের নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার নির্দেশ
লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈরুতের ১৪টি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক জরুরি সতর্কবার্তায়...
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান : জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে বিশেষ সম্মাননা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়েছে।...
শিগগিরই কুয়েত-সৌদি হয়ে ঢাকায় ফ্লাইট চলাচল শুরু
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের মধ্যে শিগগরিই কুয়েত থেকে সৌদি আরব হয়ে ঢাকায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশের...
লস এঞ্জেলেস কনস্যুলেটে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা: প্রবাসে নতুন বিতর্ক
লস এঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট লস এঞ্জেলেস-কে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত...
লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ গেলো সুনামগঞ্জের ৫ যুবকের
লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রীসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের একই গ্রামের ৩ জনসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায়...
