পর্তুগালের প্রাচীন রাজধানী বন্দর নগরী পোর্তোয় নানা আয়োজনে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করেছে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো। বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো এবং পর্তুগিজ স্পাসো টি অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে ভিন্ন মাত্রায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আয়োজন করা হয়।

প্রথম পর্বে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পোর্তোর স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর নেতৃবৃন্দ, পর্তুগালের ক্ষমতাসীন স্যোসালিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জন্তা প্রেসিডেন্ট এন্তোনিও ফনসেকা, পোর্তো সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবসহ পোর্তো শহরের স্থানীয় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এর পর রাত ৯.৩০ মিনিটে দ্বিতীয় পর্বে পোর্তো শহরের বিখ্যাত এন্তনীয় কমার্শিয়াল দো পোর্তো অডিটোরিয়ামে একুশের বিশেষ আলোচনা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। পর্তুগালের জনপ্রিয় টিভি সাংবাদিকের সিলভার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই দেশের জাতীয় সংগীত এবং ভাষা শহীদের জন্যে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্পাসো টির সভাপতি জর্জ অলিভেইরা এবং শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন কিরন। অনুষ্ঠানে পর্তুগিজ-বাংলাদেশ সম্পর্কসহ পর্তুগিজ ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতির  সাথে আমাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী এবং সমাপনী বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর এক যুগ ফূর্তি উপলক্ষ্যে এবারের অনুষ্ঠানে পর্তুগালের মূলধারার রাজনৈতিক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী সহ ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ ১টি সংস্থাকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে পর্তুগালের স্হানীয় ও পর্তুগিজ আফ্রিকান শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও নৈশভোজের পূর্বে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর এক যুগ ফূর্তি উপলক্ষ্যে আগতো অতিথি এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে সংগঠনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন।