ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ঘোষিত এই পরিকল্পনায় ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী’ এবং জর্ডান ভ্যালি ও পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে যুক্তরাষ্ট্র বৈধতা দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ সময় ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গানৎজও উপস্থিত ছিলেন।

এই ঘোষণার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে এটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে আখ্যায়িত করেন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিরা মেনে নিলে এই পরিকল্পনা ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস করারও আশ্বাস দেন তিনি।

পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের ‘অবিভক্ত রাজধানী’ বলা হলেও পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী করা যেতে পারে বলে মত দেন ট্রাম্প। তবে পূর্ব জেরুজালেম বলতে তিনি কোন অঞ্চলকে বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটেনের ‘বেলফোর ঘোষণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিকরা। এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তারা বলেছে, এটা কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে বেলফোর ঘোষণাকে চূড়ান্ত রূপ দেবে।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনের দখলে থাকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘ইহুদিদের জন্য জাতীয় বসতি স্থাপনে’ ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর দেশটির ‘বেলফোর ঘোষণার’ ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করে ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়।

এবার ট্রাম্পের কথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা মূলত তৈরি করেছেন তার জামাতা কট্টর ইহুদি ধর্মাবলম্বী জারেড কুশনার। এনিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন তিনি।

ফিলিস্তিনি অ্যাকটিভিস্ট ফখরি আবু দিয়াব বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, ট্রাম্প নতুন বেলফোর ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছেন। ট্রাম্প এমন কিছু দিচ্ছেন তিনি যেটার মালিক নন, যাকে দিচ্ছেন সে এটা পাওয়ার অধিকার রাখে না।’

ফিলিস্তিনের সাবেক মন্ত্রী জিয়াদ আবু জায়াদ বলেন, ‘আমরা কখনো আমাদের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে ছেড়ে দেব না, এবং রাষ্ট্র হিসেবে জর্ডান ভ্যালি ও পশ্চিমতীরের অংশও নয়।’

ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। অন্যদিকে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিরোধ সংগঠন হামাস।