কাজী মশহুরুল হুদা :

প্রতি দশ বছর পরপর আমেরিকায় আদম শুমারির গণনা হয়। ২০২০ সাল আদম শুমারীর বছর। প্রতিটি আবাসিক বাসিন্দা অনলাইনে, ডাকযোগে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রায় প্রতিটি আবাসিক ঠিকানায় ২০২০ সেনসাস (আদম শুমারি) গণনার তথ্য ডাকযোগে ৯৫% পাবেন। বাকি ৫% পরিবার হয়তো সরাসরি আবাসিক ঠিকানায় পাবেন না। কারণ তাদের ঠিকানা পিওবক্স অথবা প্রাকৃতিক দূর্যগে ক্ষতিগ্রস্থ। প্রায় ১% কম পরিবারের জন্য সেনসাস কর্মী কতৃক ব্যাক্তিগত ভাবে গণনা করবে। এগুলো হয়তো আমেরিকান ইন্ডিয়ার এলাকায়। আলাস্কা এবং নর্থদান মেইন অবলম্বনে এই হল আদমশুমারি গণনার প্রক্রিয়া। মূলত: সকল পরিবারই ডাকযোগে গণনার প্রশ্ন পত্র পাবেন। এগুলোতে ৯টি প্রশ্ন থাকবে উত্তর দেওয়ার জন্য। ৫ মিনিট সময় লাগবে উত্তর দেওয়ার জন্য। ইন্টারনেট এবং পেপার ফর্মে ইংরেজিতে অথবা স্পেনিশ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আদম শুমারির গণনায় অংশগ্রহণে কোন ধরণের সমস্যা বা ভয়ের কারণ নেই। আপনাদের প্রদত্ত তথ্য আদম শুমারি বিভাগ ব্যাতিত অন্য কেউ ইমিগ্রেশন বা ফেডারেশন অথবা সরকার স্বয়ং তথ্যাদি সংগ্রহ করার অধিকার রাখে না। যদি কেউ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। অতএব, এফবিআই, সিআইএ এমনকি স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত কারও তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা রাখে না। কেউ যদি উক্ত আইন অমাণ্য করে তার জন্য ২,৫০,০০০ ডলার জরিমানার শাস্তি রয়েছে। অনাদায়ে ৫ বছরের জেল। সকলের অবগতির জন্য জনাই যে, আদম শুমারির তথ্যাদি কোর্টে পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে না। এতগুলো কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- আপনি এদেশের নাগরিক হন বা না হন, আপনি বৈধ অথবা অবৈধ, যাই হোন না কেনো তাতে কিছুই আসে যায় না বা ভয়ের কোন কারণও নেই। মূল বিষয় হল অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক এবং আপনাকে নিজের স্বার্থেই এতে অংশগ্রহনে এগিয়ে আসতে হবে।

সঠিক গণনায় জাতিগতভাবে উপকৃত হব আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী সকলেই। উদাহরণ স্বরুপ বলি, আমরা যদি লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে গণনার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে পারি তাহলে বাংলাদেশী কমিউনিটি হিসেবে আমরা আমাদের প্রজন্মকে আমেরিকার বুকে নানা ধরণের সাহায্য- সহযোগিতা এনে দিতে পারবো। অথচ বিগত দশকের গণনায় সাড়ে তিন হাজারের মত বাংলাদেশির সংখ্যা গণনা তথ্যে দেখা যায়। কারণ গণনার প্রশ্ন পত্রে আমরা বাংলাদেশী কথাটা অনেকেই উল্লেখ করিনি। এই সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই আমার লেখা।

এখানে প্রশ্নে থাকবে আপনার জাতিগত তথ্যের কথা। সাধারণত: আমরা পড়ি এশিয়ান কোটায়। এই কোটায় ঐচ্ছিক বা অপশন রয়েছে সেখানে আপনাকে অবশ্যই লিখতে হবে বাংলাদেশী। তাহলেই আমরা সঠিক গণনার মধ্যে আসব। আদম শুমারি ২০২০তে আমাদের দুটি কাজ অবশ্যই করণিয় হবে।

১. গণনায় অংশগ্রহণ।

২. প্রশ্ন পত্রের অপশনে বাংলাদেশ কথাটি লিখতে হবে।

তাহলেই আমাদের জয়যাত্রা শুরু হবে। কাউন্টিতে যখনই সঠিক গণনায় আমাদের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যা দেখতে পাওয়া যায়। তাহলে মূলধারার রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের নজরে আসতে বাধ্য হব এবং এরই মাধ্যমে কমিউনিটির উন্নতি নিহিত থাকবে। ফেডারেল, স্টেস্ট এবং স্থানীয় প্রতিনিধির জন্য, ফান্ড এবং বাজেটের জন্য স্কুল সুবিধা, বাসস্থান, হাসপাতাল, সিনিয়র সিটিজেন বেনিফিট ইত্যাদির সুবিধাদি নির্ভর করে আপনার এলাকার জন সংখ্যার উপর। গণনায় আপনি বাদ পড়লে আপনার পরিবারের ভাগেও কম পড়বে। ৬৭৫ বিলিয়ন ডলারের উর্দে্ধ ফেডারেল ফাণ্ড বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিতরণ করা হয় এই সেনসাস ডাটার উপর ভিত্তি করে। এমনকি হাউস অব দ্যা রিপ্রেজেনটেটিভ নির্দ্ধারণ করা হয় কতটা সিট স্টেস্ট পাবে এই গণনার উপর ভিত্তি করে। আদম শুমারিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক কারণ অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের অংশ।

অতএব, অংশগ্রহণ করুন এবং বলেন, ‘আই কাউন্ট’। আগামী মার্চের ১২ তারিখ থেকে আপনি আদমশুমারির ডাক পেতে শুরু করবেন এবং আপনাকে এপ্রিলের ২৭ তারিখ পর্যন্ত অনুস্মরক এবং স্মরণ করানো হবে। আপনি ডাকযোগে, অনলাইনে, টেলিফোনে, যে কোন একটি মাধ্যমে গণনা সম্পন্ন করতে পারেন। সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে আদম শুমারি ২০২০ সম্পর্কে নিজে সচেতন থাকতে হবে এবং অপরকে সচেতন করতে হবে। গণনা পত্রে আপনি যে, বাংলাদেশী সে কথাটা উল্লেখ করতে হবে অপশনে।