গত ২৫ বছরে আমেরিকা থেকে শুধু সোনালী এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার)। আর এ অর্থ পাঠিয়েছেন কঠোর পরিশ্রমী প্রবাসীরা। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, জর্জিয়া, মিশিগানের ১০টি শাখা থেকে এ অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসেও একটি শাখা ছিল। কিন্তু নানা অভিযোগে সেটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমানে নিউইয়র্কের বাফেলোতে নতুন একটি শাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাহলে রেমিটেন্সের পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে নিউইয়র্কে যদি সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একটি শাখা খোলা সম্ভব হয় তাহলে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগে অর্থের পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে। সংস্থাটির সাফল্যের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এসব তথ্য এ সংবাদদাতাকে জানান যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানী’র সিইও দেবশ্রী মিত্র। নবাগত এই কর্মকর্তা এমন সময়ে যোগদান করেছেন যখন এর প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ সন্তোষজনকভাবে বেড়ে চলছে প্রেরিত অর্থের ওপর ২% হারে বোনাসের ঘোষণায়।

দেবশ্রী মিত্র জানান, নিরাপত্তা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক স্লোগানটি এখন ষোলকলায় পূর্ণ হয়েছে এখানকার এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর ডিজিটালাইজড হওয়ায়। এখান থেকে দিনের বেলায় পাঠানো অর্থ রাতেই (বাংলাদেশে অফিস সময়ে) গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রাপকের হাতে টাকা যাচ্ছে কোন ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অথবা ঝামেলাহীনভাবে। এক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের টিম ওয়ার্ক ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত সোনালী ব্যাংকের ডলারের মূল্য পুননির্ধারিত হবার ঘটনাটিও অবৈধপথে রেমিটেন্সে প্রভাব ফেলেছে। তাই সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। সেটিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সেবার মান সেভাবেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বেশি মানুষ রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন জ্যাকসন হাইটস শাখা থেকে। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার পর থেকে চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ২৯৭৩ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে। গত বছর পাঠানো হয় ৮৭.২ মিলিয়ন ডলার (৭৪৫ কোটি টাকা)। চলতি বছর ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে ৯৯.৮ মিলিয়ন ডলার (৮৫৩ কোটি টাকা)। গত বছরের তুলনায় প্রেরণকারির সংখ্যা যেমন বেড়েছে, টাকার পরিমাণও বেড়েছে। আশা করা হচ্ছে, বছরের শেষ কর্মদিবসে অর্থের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

দেবশ্রী মিত্র জানান, ম্যারিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়ায় লাইসেন্স পাওয়া গেছে। এখনও শাখা খোলা হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ঢাকার অনুমোদনসাপেক্ষে সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তবে লস এঞ্জেলেস সিটিতে নতুন করে শাখার ব্যাপারে এখনও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অপরদিকে, ফ্লোরিডায় নতুন কন্স্যুলেট অফিস খোলার যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তার সাথে সঙ্গতি রেখে সোনালী এক্সচেঞ্জের শাখা খোলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন সিইও মিত্র। টেক্সাসের ডালাসে লোকজনের সাথে কথা হচ্ছে নতুন শাখার ব্যাপারে। হিউস্টনে এখনও কোন আলোচনা হয়নি।

এদিকে, সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডজনখানিক কোম্পানী বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানোর কাজ করছে। তারা কয়েক মাস আগে পর্যন্ত (বৈধ-অবৈধ উভয় চ্যানেলেই) ভালো অবস্থানে ছিল। সোনালী এক্সচেঞ্জে ডলারের দাম বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ২% হারে বোনাস প্রদানের কার্যক্রম চালু হওয়ায় দিনদিনই তারা কাস্টমার হারাচ্ছেন। এজন্যে ভেতরে ভেতরে তারাও নিজেদের প্রস্তুত করছেন পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে রেমিটেন্স ব্যবসা অব্যাহত রাখার জন্যে।

সোনালী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ শাখা খুললে হাজারো প্রবাসীর বিনিয়োগের স্বপ্ন পূরণ হবে। বিভিন্ন ধরনের বন্ড বিক্রির পরিমাণ বাড়বে। বর্তমানে সোনালী এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা ঐসব বন্ডের তথ্য মাঝেমধ্যে প্রবাসীদের অবহিত করলেও সরাসরি তারা কোন সহযোগিতা দিতে পারেন না। বাংলাদেশে গিয়ে প্রবাসীদের সে সব ক্রয় এবং ভাঙাতে হচ্ছে। এরফলে যারা বাংলাদেশে যেতে সক্ষম হচ্ছেন না তাদের জন্যে সেই বন্ড ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এজন্যে সংশ্লিষ্ট সকলে পরামর্শ দিয়েছেন নিউইয়র্কে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাংকের শাখা খোলার জন্যে। তাহলে প্রবাসীরা এখানে থেকেই বন্ড ক্রয় এবং ডলারের বিপরীতে সেগুলো বিক্রি অথবা ভাঙাতে পারবেন।

জানা গেছে, এক লাখ টাকায় ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড ক্রয়ের ৫ বছর পর তা ভাঙালে পাওয়া যাচ্ছে এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। এর বিপরীতে ট্যাক্স নেয়া হয় না। আরও উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংকের একটি বুথ রয়েছে। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারি থাকলেও জনসংযোগে ঘাটতি থাকায় বছর শেষে কোন আয়-উপার্জন হয় বলে কেউই মনে করছেন না। এ নিয়ে কমিউনিটিতে বিরূপ ধারণা রয়েছে। কার স্বার্থে রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে ব্যয় করা হচ্ছে সে প্রশ্নও ক্রমে চাঙ্গা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা সত্বেও আজ অবধি যথাযথ কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।