ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়াহতে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সরকারবিরোধীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৪৫ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিকের বেশি বিক্ষোভকারী। দ্যা গার্ডিয়ানসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

এর মধ্যে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়াহতে একটি ব্রিজ খালি করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোঁড়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে প্রায় ২৯ জন নিহত হন। আহত হন ৪০ জনেরও বেশি। একইদিনে বাগদাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন আরও চার আন্দোলনকারী। এছাড়া নাজাফ শহরে নিহত হন ১০ জনেরও বেশি। এই শহরে ইরানের দূতাবাস আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেই আন্দোলনকারীরা নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্যতম বৃহস্পতিবার ছিল রক্তাক্ত দিন।

নাসিরিয়াহ শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ২৯ জন নিহত হওয়ার পর শহরজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে সামরিক এবং বেসামরিক লোকদের সমন্বয়ে  ‘ক্রাইসিস সেল’গঠন করা হয়েছে।

চাকরি, দুর্নীতি বন্ধ এবং আরও উন্নত জনসেবার দাবিতে অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে বাগদাদে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এরপর তা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ইরাকের এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।