মালয়েশিয়ায় মানবিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহ করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণের (সোহোম) হেড অব এসোসাইজস অফ স্পেসসেস আয়োজিত আন্তর্জাতিক চ্যারিটি বাজার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জে ডব্লিউ মেরিউট হোটেলের মায়াং তামান সেরী গ্র্যান্ড বলরুমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় এ চ্যারিটি বাজার।  বাজারে অংশগ্রহণকারী মিশন গুলো নানান সাজে সজ্জিত স্টলে পসরা সাজিয়ে স্ব স্ব দেশীয় হস্তশিল্প, কারুশিল্প ও মুখরোচক খাবারসহ নানান পণ্য সম্পর্কে আগত দর্শনার্থীদের ব্যাপক ধারণা দিতে ব্যস্ত দেখা যায় সবকটি মিশনের সদস্যদের। 

বাজারের প্রধান উপভোগ্য বিষয় ছিল জে ডব্লিউ মেরিউট হোটেলের মায়াং তামান সেরী গ্র্যান্ড বলরুমের বিশাল মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‍্যাফেল ড্র। নেপাল, চীন, ইয়েমেন, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ নেচে গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ডকুমেন্টারি মাঝে মাঝে দেখানো হয় সুবিশাল এলইডি স্ক্রিনে। এসময় উপস্থিত দর্শক তা উপভোগ করেন ।

এ বারের আয়োজনে বাংলাদেশ প্রবেশ টিকেটের অর্ধেকের বেশি ক্রয় করে সুনাম অর্জন করে এবং র‍্যাফেল ড্রতে ঘোষিত বিএমডব্লিও, হোটেল সানগ্রিলা, মেন্ডারিন ওরিয়েন্টাল, গ্র্যান্ড হায়াত, শেরাটনসহ আন্তর্জাতিক কোম্পানি গুলোর স্পন্সরকৃত পুরস্কার গুলো জিতে নেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রায় একাই ১৮টি পুরস্কার জিতে নেন ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা ওহিদুর রহমান ওহিদ।    

সোহমের সভাপতি, ত্রিয়ানা নেচিটায়লো জানান, তিন বছর আগে আমাদের প্রথম বাজার ছিল এবং সেটিও এই জে ডব্লিউ মেরিউটই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা তখন আরএম ১০০,০০০ জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছি।

“সুতরাং আমরা লক্ষ্য করেছি এর আগে উত্থাপিত তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলা। এবারের আয়োজনে অতিরিক্তসহ মোট চার হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে বলেও জানান সোহম সভাপতি ।  

একদিনের এ বাজারে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়ায় প্রায় আরও ৪১টি কূটনৈতিক মিশনের অংশগ্রহণ ছিল। বাজারে তাদের পণ্য বিক্রয়, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীতে তাদের চারুকলা ও কারুশিল্পের উপস্থাপনা এবং অংশগ্রহণের সাথে ছিল সাংস্কৃতিক শো।

মালয়েশিয়ায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সান্দার নেচাইটায়লো বলেছেন, “আমরা এই অনুষ্ঠান থেকে কমপক্ষে আরএম ২০০,৩০০ জোগাড় করার লক্ষ্য রেখেছি। তার মতে, প্রথম প্রোগ্রামে সফলভাবে উত্থাপিত হওয়া আরএম ১০০,৩০০ তহবিলটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করার জন্য এবং বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থী শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিল এ ব্যবহৃত হয়েছিল।

“আমরা অতীতের কর্মসূচিতে সহায়তাপ্রাপ্তদেরও সহায়তা প্রদান চালিয়ে যাব। একই সাথে আমরা অন্যান্য সংস্থাগুলিতে সহায়তা বিতরণেও সহায়তা করব এবং সোহম সবসময় অভাবী লোকদের সহায়তা বিতরণ চালিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, জাপান, চীন, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ওমান, কাতার, কুয়েত, উইজবেকিস্তান, তাজকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ডসহ মোট ৪২টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং সবকটি দেশেরই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উপচেপড়া।