আহমেদ ফয়সাল :

সকলেই জানি যে, আবরারকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে তার এক দেশপ্রেমিকোচিত ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য। শহীদ আবরার তার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের নতজানু সরকার কতৃক দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ইন্ডিয়াকে ফেনী নদীর পানি প্রদানে সম্পাদিত চুক্তির জন্য একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উষ্মা প্রকাশ করেছিলো। দেশের স্বার্থ নিয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছিল! দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ইন্ডিয়াকে এযাবৎ কোনটা দেয়া হয়নি? সমুদ্র, ট্রানজিট, পোর্ট, পানি, ছিটমহল, ইলিশ, বাজার, কোনটা বাকি আছে দেয়ার? বাকি আছে শুধু কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে দিয়ে পতাকাটা ওদের হাতে তুলে দেয়ার! অত:পর কাশ্মীরীদের ভাগ্য বরণ করে নেয়ার! অনেকে বলতেছেন, পানি তো আগে থেকেই নিচ্ছিলো, শুধু চুক্তি করে বৈধতা দেয়া হয়েছে, এর আর এমন অন্যায় কি? খুবই ভালো যুক্তি বটে! কথাটার মানে দ্বারায় এমন, ‘আপনার বাড়ি তো অবৈধ ভাবে দখলে নিয়েই গেছে, সুতরাং দলিলটা দিয়ে বৈধ বানিয়ে দিন’! আবরার হত্যার যারা বিচার চাইছেন, তাদেরকে আবরার হত্যার মূল উদ্দেশ্যটির দিকে ফোকাস করতে হবে। আবরার হত্যার বিচার শুধু খুনীদের শাস্তি প্রদানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেনা। যেকোনো ঘটনা দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণটিও ঘটনার অন্যতম মেটেরিয়াল হিসেবে সংযুক্ত হয়। সুতরাং যে চুক্তির বিরোধিতা করতে গিয়ে আবরার জীবন দিয়েছেন, সেই দেশদ্রোহী চুক্তি বাতিল করতে হবে। ভাইরে, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার জন্য বিএনপি জামায়াত করা লাগেনা। হোননা আপনি আওয়ামীলীগ, তাতে কি? হৃদয়ে সামান্যতম দেশপ্রেম থাকলেও দেশের স্বার্থ বিকানো সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। দলের নিকটে কনসেন্স বা বিবেক যদি লিজ না দিয়ে থাকেন, মুখ খুলুন। নির্ভয়ে দেশের স্বার্থে কথা বলুন। নাহয় এমন একটা সময় আসতে পারে, যখন ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিকগণ লিখবেন, যে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা রেখেছিলো, সেই আওয়ামীলীগ সরকারের হাতেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে যেতে বসেছিলো!