Read Time:5 Minute, 19 Second

কাজী মশহুরুল ‍হুদা :

মরহুম জেসমিন খানের সর্বশেষ পুস্তক ‘এ জার্নি ফ্রম মাই হার্ট’। পবিত্র হজব্রত পালনে যাত্রার উপর ভ্রমণ কাহিনী। আধ্যাতিক চেতনায় এবং নিজের মনের বাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে গমনের উপর মনের ভাব ব্যাক্ত করেছেন তার এই শেষ পুস্তকটিতে। অনুভূতিপূর্ণ যাত্রা ছিল উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

হজ্বের উপর বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, জেসমিন খানের ‘এ জার্নি ফ্রম মাই হার্ট’ টি সেই সকল বই থেকে ব্যাতিক্রমধর্মী।

পুস্তক সমালোচনায় লেখিকার ব্যাক্তিগত ঘটনাবলী উল্লেখ না করে উদ্দেশ্য হাছিল করা দূরুহ হবে। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জননী এবং তার স্বামী মোসলেম খান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রথম সন্তান মিকাইল ইতেয়াজ খান রাসেল ও কন্যা মাহাজাবিন ফারিয়া খান দুজনই বিদেশে পড়াশুনা করত। তার সাথে ছিল ১৪ বছরের কনিষ্ট পুত্র মুনাতাসির ইমতেহাদ খান মুন মাত্র ১৪ বৎসর বয়সে ক্লাস এইটে পড়ত। মুন সর্ব্বদায় জেসমিন খানের সাথে থাকতো। বড় আদরের ছিল। কিন্তু ১৪ বছর বয়সে বাসার ছাদ থেকে পড়ে আকস্মিক ভাবে হারিয়ে যায় মা-বাবা ভাই-বোনের কোল ছেড়ে। মুনের মৃত্যুর পর জেসমিন খানের হৃদয় ভেঙে খান খান হয়ে পড়ে। ক্ষতময় হৃদয়ের চাপা বেদনার অনুভূতি বুকে ধরে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এই বেদনা থেকে মুক্তির উপর হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন হজ্জ যাত্রা। নিজেকে পৃথিবীর সমস্ত জাগতিক সম্পর্ক থেকে ছিন্ন করার উদ্দেশ্যেই এহরাম যাত্রা’র পথে গমন করেছিলেন। তার ধারণা ও প্রার্থনা ছিল। তার সব সময় মনে হয়েছে- কাবাঘরে গেলে তার মুনের স্পর্শ পাবে। তিনি জানতেন জাগতিক ভাবে হয়ত কখনই মুনকে কাছে পাবেন- কিন্তু বিশ্বাস ছিল আল্লাহ কখনওই তাকে ফিরিয়ে দেবেন না। ‘শান্তি দেবেন হৃদয়ে, ধৈর্য দেবেন, শক্তি দেবেন।’

এ বিশ্বাসেই তার যাত্রা। সেই যাত্রা পথে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন এই বইতে। তাই এই গ্রন্থ গৎবাধা কোনও হজ্জবৃত্তান্ত নয়। গ্রন্থকারের জীবন পরিক্রমা, তার সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ট ভ্রমণ কাহিনীও বটে।

তিনি লিখেছেন, ‘শুধু নিয়ম মেনে এক যাত্রা পথের সমাপন উৎসব এটি নয়। পরকালের জীবনকে সহজ করে মেনে নেওয়ার এ এক পূর্ণাঙ্গ রিহার্সেল।’

ভ্রমণ কাহিনীতে সবিস্তারে জেসমিন খান বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করেছেন, তেমনি ভাবে অপ্রত্যাশিত কিছু প্রাপ্তি যোগও তুলে ধরেছেন। মক্কায় গিয়েও তিনি সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের দৃশ্য খুঁজেছেন। তাঁর একান্ত অনুভব, অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই বইটিতে। যারা হজ্জ করেননি, তাদের জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে জেসমিন খানের এ জার্নি ফ্রম মাই হার্ট। তার প্রার্থনা ছিল মুনের কাছে যাওয়ার। সে প্রার্থনা হয়ত রাব্বুল আলামিন কবুল করেছিলেন। আর তাই তিনি এই বইটি শেষ করে প্রকাশিত হবার আগে ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০১৭ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এক সভায় বক্তৃতাদান কালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াবন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরম করুনাময় রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন জেসমিন খানের হ্জ্জ কবুল করেন। তাকে এবং তার কনিষ্টপুত্র মুনকে বেহেস্তবাসী করেন। এ প্রার্থনা আমাদের সকলের। তার প্রকাশিত সর্ব্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট বইটি পাঠক সমাজে সমাদৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ভ্রমণ কাহিনীর সাথে ধর্মীয় তথ্যাবলী জ্ঞান পূর্ণ পাঠকদের সচেতন ও মনের মাঝে ব্রত পালনে আগ্রহী করে তুলবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post জাতিসংঘে ফের বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজ্যুলেশন পাশ
Next post ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ কোটি ডলার অপব্যয়
Close