Read Time:6 Minute, 36 Second

কাজী মশহুরুল হুদা :

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লস এঞ্জেলেস (বালা) এর জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে। নব্বই দশকে সেই বালা বিশ বছর ধরে এক প্রকার কারাগারে ছিল। তারপর পুন:জন্ম লাভ করে ৬ বছর অচেতন অবস্থায় ছিল। অবশেষে জ্ঞান ফিরে আবারও পুনরুত্থান ঘটে। এরপর পুন:জাগরণ সৃষ্টি হয়। তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বালাকে সার্বজনীন করতে নির্বাচন ঘোষিত হয় এবং তথাকথিত প্রহসনমূল নির্বাচনের বিরুদ্ধে টাউন হল মিটিং হয়। কিন্তু তাতেও রক্ষা হলো না। ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুনরায় নির্বাচন বাতিল হয়েছে। এখন বালা আসলেই বালায় (বিপদ) পরিণত হয়েছে। বালা সেই পূর্বের মুছিবত (বিপদ) কাটিয়ে আলোর মুখ দেখতে পারছে না। কারণ অভিযোগ উঠেছে বালাকে দীর্ঘকাল যাবৎ পকেটজাত করণের প্রক্রিয়ার জন্য কমিউনিটির মানুষের কাছে সার্বজনীন হয়ে উঠতে পারছে না। এ অবস্থায় বালাতে গণতন্ত্রের অভাবে আবারও বন্দী হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। তবে এসব সমস্যা ও সংকট কাটিয়ে ওঠার উপায় আছে। আর তা হচ্ছে- নি:স্বার্থভাবে বালাকে কমিউনিটির হাতে ছেড়ে দিতে হবে। অবশ্যই পকেটজাতকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রথমত :

বালার সংবিধানকে সঠিক ভাবে ব্যাবহার করতে হবে। কোন সংগঠনের যদি সংবিধান থাকে সেই সংবিধান অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধান থাকা সত্যেও যাদের হাতে বালা পুন:গঠনের জন্য গেল, তারা নতুন করে বালার সংবিধান নিজেদের মত করে প্রণয়ন করার কোন প্রয়োজন নেই। একই সংগঠনের সংবিধান দুটি হয় না, হতে পারে না। যদি কিছু করতেই হয় তবে, মূল সংবিধানের উপর সংশোধন করা যায়। বালাকে বিপদ মুক্ত করতে হলে নবপ্রণিত সংবিধান বাতিল করে মূল সংবিধানকে সামনে রেখে সংশোধন করে পুন:গঠন করলেই বালা সার্বজনীনতা প্রাপ্ত হবে।

মনে রাখতে হবে- মানুষের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। বালার নির্বাচনী প্রক্রিয়া অত্যান্ত সাধারণ হতে হবে। আমরা সকলেই জানি- একমাত্র বালা উক্ত এলাকার সমগ্র কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করে, অন্যকোন সংগঠন বা ফেডারেশন নয়।

অতএব উক্ত এলাকার সকল কমিউনিটির মানুষই বালার সদস্য। নির্বাচনে কাউকে টাকা বা ডলারের বিনিময়ে সদস্য হয়ে ভোট দিতে হবে ন। বাংলাদেশ সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে। তার জন্য কি জনগনকে অর্থের বিনিময়ে ভোটার হতে হয়? বালা তেমন একটি ধারণা। এ ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা বিভিন্ন পদের জন্য বিভিন্ন ধরণের ফি দেবেন। কমিউনিটিকে অর্থ দিয়ে সদস্য হতে হবে না। সকল কমিউনিটিই বালার সদস্য। এর ফলে সংগঠনের ব্যাপ্তি ও ব্যাপকতার সৃষ্টি হয়।

বালার একটি ঐতিহ্য আছে। গ্রিফিত পার্কের খোলা মাঠে কমিউনিটির উপস্থিতিতে পিকনিকের আয়োজনে ভোট সংগ্রহ করার। তেমনিভাবে সকল প্রতিদ্বন্দ্বির ব্যালট সংগ্রহ করবেন নির্বাচন কমিশন। এখানে কোন ডাক যোগে বা অনলাইনে ভোট প্রদানের সুযোগ থাকবে না। তাতে বরং জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবে। কার্যকরী কমিটির কারো কোন হস্তক্ষেপ করার অধিকার থাকবে না বা থাকার কথাও নয়। প্রকাশ্যে গননার ফলাফলেই নির্বাচিত হবে নতুন কার্যকরী কমিটি। এখানে কোন বা করো স্বেচ্ছাচারিতা বা খবরদারির সুযোগ নেই।  বালা কারো নিজস্ব সম্পদ নয়। বালা কারও নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নয়। বালা কমিউনিটির মানুষের কল্যাণকর সংগঠন। তাই কুপমণ্ডকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আইন বা সংবিধানের ধারা বিন্যাস্ত ঘটিয়ে কুক্ষিগত করার চিন্তা পরিহার করতে হবে। মানুষের স্বার্থে, কমিউনিটিতে স্বার্থে, দেশ ও জাতির স্বার্থে সহনশীলতার সাথে, নিস্বার্থেভাবে একনায়কতন্ত্রের মানসিকতাকে দূরে সরিয়ে সকলকে নিয়ে সকলের জন্য আসুন আমরা সকলে মিলে বালাকে আবারও তার তারুণ্য ফিরিয়ে দেই। যা হবে আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে। যেখানে সংবিধানের ধারায় কোন ফাঁকযোগ থাকবে না। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবে সেই নির্বাচন। কোন ভোটার লিস্ট থাকবে না। থাকবে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। কারচুপি, ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থাকবে না, থাকবে অনাবিল আনন্দ, মানুষের সমাগম। লাইন দিয়ে ভোট প্রদান, বনভোজন, মিলন মেলা।

আসুন আমরা আর একবার চেষ্টা করে দেখি বালাকে বালা মুসিবত থেকে দূরে রেখে আলোর পথে ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না?

 

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post কেইম্যান আইল্যান্ডের গভর্নর পদ থেকে বরখাস্ত আনোয়ার চৌধুরী
Next post এবার গুগলের বিরুদ্ধে ট্রাম্প
Close