Read Time:4 Minute, 58 Second

আবহমানকাল থেকেই গ্রীষ্ম উৎসব পালিত হয়ে আসছে বাংলাদেশে, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা পৃথিবীর মানব গোষ্ঠির মধ্যেই গ্রীষ্ম পালনের রীতি প্রচলিত আছে। প্রাচীন গ্রীস, মিসর রোম ও পারস্যে গ্রীষ্ম উৎসব উদযাপন যেন মানুষ জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গি ভাবে মিশে আছে। হাজার বছর ধরে চৈত্রসংক্রান্তির গায়ে উত্তর বঙ্গে বসে গাজনের গানের আসর আর শিবের গীতি আসর। বাঙালি যে যুদ্ধে জয় করা জাতি সে প্রমান তো ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধেই প্রমান করেছে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরে। স্বাধীনতা যুদ্ধে পিছিয়ে ছিল না হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা প্রবাসী বাঙ্গালিরা। পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকেই বাঙ্গালিরা অংশ নেয় দেশ মাতৃকাকে পাকিস্তানী হায়না মুক্ত করার যুদ্ধে।

বাংলা মায়ের যে বীর সেনানীর অকাতরে ঢেলে দিয়ে ছিল বুকের তাজা রক্ত, যাদের রক্তে আকা হয়েছে বাংলার মানচিত্র। সেদিন সুদুর প্রবাসে থেকেও বাঙ্গালিরা সেই সব বীরদের জন্য উজার করে দিয়েছিল ঘাম ঝরানো অর্থ। অনেকে বিদেশের বিলাস বহুল জীবন ত্যাগ করে ছুটে গিয়েছিল পাকিস্তানী হায়নার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহন জন্য। বুকের মাঝে লালন করা বাঙালির বাঙালিত্ব কোন কালেই বিলীন হয়ে যায় না দেশ থেকে সে যতো দূরেই থাকুক না কেনো। জীবন যেখানে বাধা পড়ে মানুষ সেখানেই বাসা বাধে এটা প্রকৃতির নিয়ম। সেই জীবনের আহবানে লক্ষ লক্ষ বাঙালি নিজ মাতৃভূমি সংস্কৃতি ছেড়ে এই সুদুর প্রবাসে বিদেশী সংস্কৃতির পরিমন্ডলে বসবাস করলেও বুকের ভেতর লালন করছে বাংলাদেশের হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা সাংস্কৃতি তারই প্রমান মিলে গত রবিবার ২ সেপ্টম্বর ২০১৮ লস এঞ্জেলেসের অদুরে অরেঞ্জ কাউন্টি ক্যালির্ফোনিয়া কনভেনর রফিকুল হক রাজু, অনুষ্ঠান পরিচালক সৈয়দ এম হোসেন বাবু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক কৃষ্ণ পালের উদোগ্যে শহিদ আহম্মেদ রনি ও রোশনী আলমের উপস্থাপনায় এই প্রথম সাঁতটি সংগঠন মন পবন, সনাতনি হিন্দু সোসাইটির, ক্রান্তী, বাংলাদেশ একাডেমী, বাংলা গানের স্কুল, হ্রদম, বিসিআইই কে সাথে নিয়ে স্থানীয় কাবেরী কানিজ ফাতেমা, নাহিদ সিরাজী সিমীম, মেজর অ: কুতুবী, শিল্পী রহমান, কাবেরী রহমান, কৃষ্ণ পাল, সহ আনেক শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে জমকাল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মধ্য দিয়ে উদযাপন করলো গ্রীষ্ম বরণ উৎসব ২০১৮।

উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুর্হু করতালিতে শিল্পীদের অভিন্দন জানান। যদিও অনেকেই ছিলেন স্ব জনদের ছেড়ে অনেক দূরে কিন্তু প্রবাসী বাঙালীদের ঐকান্তির প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠিত গ্রীষ্ম বরণ উৎসব সে দূরত্ব কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করেছে। তার প্রমাণ মিলে যখন বাংলাদেশী কমিউনিটির মমিনুল হক বাচ্চু, শামসুদ্দিন মানিক, সোহেল রহমান বাদল, ড : সিরাজ উল্লাহ, ড : জয়নুল আবেদিন, আনিসুর রহমান, আবুল খায়ের, কহিনুর রহমান, বিবেক সরকার, জাহিদুল মাহমুদ জামি, সাঈদ, নজরুল ইসলাম প্রমুখ এবং উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক মামুন লস্কর। নতুন প্রজন্ম ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় প্রবাসে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post মাদ্রিদে প্রবাসীদের মিলনমেলা
Next post আওয়ামী যুবলীগ ক্যালিফোর্নীয়া ষ্টেট শাখা’র সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ
Close