বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন অব লস এঞ্জেলেস আয়োজিত গত ২৮ ও ২৯ জুলাই দু’দিন ব্যাপী উদযাপিত হল আনন্দ মেলা উৎসব। ভার্জিল মিডল স্কুলে উপচে পড়া মানুষের ভীড়ে ও আনন্দের হিল্লোলে অভিনেতা শুভ ও অভিনেত্রী পূর্নিমার উপস্থিতে এক মনরম অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের আনন্দ মেলায় পদক পেলেন লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, প্রবাস বাংলার সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মূকাভিনয় শিল্পী কাজী মশহুরুল হুদা। অনুষ্ঠানে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক ও ব্যাক্তিত্ব এম. কে. জামানকে।
উপস্থাপনায় ছিলেন- মিঠুন চৌধুরী, সামা আকবর ও রশনি আলম। আনন্দ মেলার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মোহম্মদ আলী। যাদের জন্য আনন্দ মেলা সফলতা লাভ করেছে তারা হলেন, ঢুলী, সাইফুল চৌধুরী, মুরাদ আহমেদ, ফেন্ডস বাবু, রাসেল নুর, সায়মল মজুমদার, দিপু, বাবুল হোসেন, স্বপ্ন বাহার, হিমেল হাসান, দেওয়ান জামিল পলাশ, লাবু আলম, রুপম অধিকারী, মনি, ময়না, হাবিবুর রহমান ইমরান, জাকির খান, আলমগীর হোসেন, রাজীব কুন্ডু, সামি নোবেল, আব্দুস সামাদ, মারুফ খান। এবারের আনন্দমেলা ২০১৮ এর চেয়ারম্যান ছিলেন ডা: রবি আলম এবং কো-চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ দিলির হোসেন, মুনমুন ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ নূর, টিপু আলম, কামরুল হাসান, শফি আহম্মেদ। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অভিনেতা আরেফিন শুভ, পূর্ণিমা, সঙ্গীত শিল্পী এস আই টুটুল, বিপ্লব, ইমন শাহা, শাহ মাহবুব, সোনিয়া, নৃত্যশিল্পী প্রিয়া ডায়েস ও মূকাভিনেতা কাজী মশহুরুল হুদা।
উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ থেকে আগত আরটিভির সিইও আশিক রহমান। দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন লস এঞ্জেলেসের কন্সুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ প্রিয়তোষ সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কংগ্রেস ওমেন জুডি চু। মেলার শেষের দিন এওয়ার্ড বিতরণ করেন লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট হাবর্ব জে ওয়েসন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করে বলেন, লস এঞ্জেলেস সিটি বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে ধারণ করে গর্বিত। অনুষ্ঠানের সম্পন্সর হিসেবে ছিল তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্ণিয়া ও ঢাকা হোমস। মিডিয়া পার্টনার আরটিভি। প্রতিদিন আনন্দ মেলার থীম সংগীত দিয়ে সন্ধ্যাকালীন আয়োজন শুরু হয়। প্রথম দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন- নৃত্য ছিল শুভা ব্যানার্জি ও তার দল, কুমি বড়ুয়া, দ্বীপ সেন বড়ুয়া, প্রভা হোসাইন, দিশা বড়ুয়া, মার্টিনা বড়ুয়া, সারাহ এবং জারিয়া। সঙ্গীত পরিবেশন করেন আল আমিন বাবু, উচ্ছল কাজী, শহিদ আলম, আদনান খান, শামা আকবর, উপমা সাহা মজুমদার, বিপ্লব, সোনিয়া ও শাহ মাহবুব। দ্বীতিয় দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে আনন্দমেলার উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অংশগ্রহণে উপমা সাহা মজুমদার, অঞ্জলি চৌধুরী, কথা সমদ্দার, সীমা ইসরাইল ও গৌরব সমদ্দার গলা।
উদ্বোধনী সঙ্গীত লিখেছেন- লিটন অধিকারী রিন্টু এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন- মারভিন অধিকারী। নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন, সামসুন মনির, তানিশা ও প্রিয়া ডায়েস। সঙ্গীত পরিবেশন করেন, কথা সমদ্দার, অঞ্জলি রায় চৌধুরী, শ্যামল পল, সীমি ইসরাইল, স্বরাজ ব্যাণ্ড (কি বোর্ড ও ভোকাল- গৌরব সমাদ্দার গল্প, গীটারে- আই জ্যাক প্রীতম, বেইজ- লাকী ইসলাম, ড্রামস- খাজা এরশাদ ময়নুদ্দিন পপ্সি, প্যাড ড্রামস- মারভিন অধিকারী রূপম। ইংরেজী গান পরিবেশন করে নতুন প্রজন্মের অহনা ডায়েস, ইমন সাহা ও এস আই টুটুল। অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় প্রদর্শনী করেন কাজী মশহুরুল হুদা এবং আবৃত্তি শিলা মুস্তফা। পুরো আনন্দ মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল – ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক আরেফিন শুভ ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা।
জনৈক ব্যাক্তি ইতিপূর্বে মন্তব্য করেছিলেন, এদেরকে আনা হচ্ছে কেনো? এরা কি দেখাবে? গাইতে পারে? কিন্তু পরবর্তিতে দেখা গেছে সকলের মুখে ছাই দিয়ে শুভ ও পূর্ণিমা জমিয়ে তোলেন মেলার মাঠ। বিষয়টি হচ্ছে- প্রথমত তারা সেলিব্রেটি। তাদের সঙ্গে সকলেই চায় ছবি তুলতে। এতোটাই উদগ্রিব যে সিকিউরিটিও হার মানেতে বাধ্য হয়। তারপর পারফরমেন্সের দিক দিয়ে শুভ এককথায় অতুলনিয়। অভিনেতা হয়েও তিনি যেমন করে গান গেয়ে শুনালেন, তেমনি গানের সঙ্গে লস এঞ্জেলেসর নারীদের সঙ্গে নেচেও দেখা দেখালেন। সেই সঙ্গে জয় করে নিলেন আগত অতিথিদের হৃদয়। এরপর পূর্ণিমার মনমুগ্ধকর গান ও ইম্প্রুভাইজেশন সকলের মন কেড়েনেয়। এমন একটি অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য সকলেই আয়োজক মোহাম্মদ আলীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মেলার মাঠ ঘিরে ছিল দেশিও সংস্কৃতি ও কৃষ্টির বাহারী সব পোশাক। সেই সঙ্গে ছিল বাঙালি খাবার ও বই।
এ আয়োজন দেখে এখন সবার মনে নতুন করে প্রত্যাশা জেগেছে আগামী ২০১৯ সালের আনন্দ মেলার জন্য।