রুবেল আহম্মেদ :

ঐক্যের বাণী নিভৃতে কাঁদে যখন দেখি কিছু নেতা কর্মি পদ পদবী লোভে মূলধারার আওয়ামী লীগ কে অস্বীকার করে স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধ অপরাধীর দায়ে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলানো জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের সংবর্ধনাকারী আর বঙ্গবন্ধুর খুনির আইনী সহায়তাকারীকে সঙ্গে নিয়ে সম্মেলন নামক মঞ্চ নাটক করে। কিসের ঐক্য কার সাথে ঐক্য? ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগ তো ঐক্যবদ্ধ এখন।

যাইহোক- ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগ গত কয়েক মাস যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছিলো শক্তিশালী ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগ গঠনে। আর আপনাদের মত পদ পদবী লোভী কিছু নেতা কর্মি মূলধারার আওয়ামী লীগকে কর্ণপাত না করে ঐতিহাসিক এক সম্মেলন ডেকে পদ বানিজ্যে লিপ্ত হলেন। যার কোনও সাংগাঠনিক বৈধতা নেই। আপনাদের ভাষ্যমতে এমন সম্মেলন পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম। গায়ে মানে না আপনি মোড়ল নেতা বনে গেলেন। এবার নিশ্চয় বলবেন আমরাই বৈধ যুবলীগ আর অন্যটি অবৈধ পয়দা আমার কথা না আপনাদের সমর্থনের এক সাংবাদিকের ভাষা এটি। কে বৈধ আর কে অবৈধ দুটিরই বাবা মা কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ। কারন তাদের বিভক্তিতেই সৃষ্টি হয়েছে দুইটি যুবলীগ।যদি বৈধ বলতে হয় দুইটি যুবলীগই বৈধ আর অবৈধ হলে দুইটি যুবলীগই অবৈধ। বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনাদের অবস্হান এখন বকে যাওয়া অবাধ্য সন্তানের মত। সম্পতি ভাগাভাগি হওয়ার ভয়ে সৎ ভাইয়ের কোলে এসে জুড়ে বসেছেন। এটা কি প্রমান করে না আপনারা দলের স্বার্থে না ব্যক্তি স্বার্থে পদ পদবী লোভে রাজনীতি করেন। পরিষ্কার করে যদি বলি মূলধারার আওয়ামী লীগ চেয়েছিল যুবলীগের দুপক্ষকেই খুশি রেখে শক্তিশালী একটি যুবলীগ গঠন করা। আর সেই ঐক্য প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছেন আপনারাই। এখন আবার ঐক্যের বানী শুনাচ্ছেন বেশ ভালো কথা ঐক্য তো আপনার মত অনেকেই চায় প্রমান করুন আপনি ঐক্যের পক্ষে, পদত্যাগ করুন অসাংগাঠনিক উপায়ে পাওয়া পদ থেকে।ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি করার কথা বলেছেন আপনি সে তো আপনি নিজেও একজন ভ্যালি যুবলীগের পদ নিয়েছিলেন অসাংগাঠনিক ভাবে। কাকে দোষাতে চান দোষ তো আপনার মধ্যেও। সরিষার মধ্যে ভূতের কথাও বলেছেন তাড়াবে কে এমন একজনকে তো আপনারা উপদেষ্টা করে রেখেছেন অসম্মান করে বলছি না কারণ ঔনি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযাদ্ধা।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই,আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতা ডা. দিপু মনি আসাকে কেন্দ্র করে যে ক্ষ্যাপা ক্ষেপেছেন তার ফেসবুক প্রোফাইলে যে ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে হচ্ছে তার ভয়ে অন্য সব আওয়ামীলীগ নেতারা ভয়ে পালাবে লস এঞ্জেলেস থেকে।আরে ভাই ঔসব হুমকি ধামকি দিয়ে কখনো ঐক্য হয়না বিভেদ বাড়ে।আর কারও ভয়ে কেউ লস এঞ্জেলেস থেকে পালাবে না মনে রাখবেন। উনি কনসাল জেনারেলকে দোষারোপ করছেন তার জন্যই নাকি তারা ডা. দিপু মনির সাক্ষাত পাননি কিন্তু কনসাল জেনারেলের বক্তব্য তিনি তাদের দাওয়াত দিয়েছেন তারা নিজেরাই আসেননি। তিনি অযৌক্তিকভাবে স্টেট আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দাওয়াত চেয়েছিলেন যেখানে কেন্দ্র অনুমোদিত স্টেট আওয়ামীলীগ সভাপতি শফিকুর রহমান। আমার কেনও জানি সন্দেহ হয় সে নিজে মূলধারার আওয়ামীলীগকে বিভক্তির মধ্যে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। যদি তাই না হত তার নেতাকর্মির ভাষ্যমতে কথিত সেই যুবলীগ নেতাকে তারা দুচোখে দেখতে পারেনা অথচ তাদের সম্মেলনে সে উপস্হিত ছিলেন তার নেতাকর্মিদেরকে নিয়ে কিন্তু কেন?কিসের স্বার্থে? উওর খুঁজুন পেয়ে যাবেন।তবে তার প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাবোধ আছে কারণ তাকে আমি আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে জানি।
এবার আসা যাক সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবকলীগ প্রসঙ্গ, যাকে সঙ্গে নিয়ে আপনারা মূলধারা বিরোধী রাজনীতি শুরু করেছেন সে তো মহা এক নেতা কাউকে তোয়াক্কা করে না যাকে খুশি তাকে অপমান অপদস্ত করতে তার বাধে না কারণ একটাই সেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি এডভোকেট মোল্লা কাউছার ভাই নিজে উপস্থিত থেকে দিয়ে গেছেন আর এই দেমাগেই মাটিতে পা পড়ে তার। উপরন্তু মাথার মধ্যে চেপে বসে আছেন সরিষার মধ্যে ভূত নামক সম্মানিত বীর মুক্তিযাদ্ধা।
সুতরাং কাকে নিয়ে ঐক্য করবেন? আমিও ঐক্য চাই শুধু একজন দুজন না সবারই শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। শক্তিশালী একটি আওয়ামী লীগ পরিবার গড়ে উঠুক এই ক্যালিফোর্নিয়াতে এই আশায় বুক বাঁধলাম।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু