লস এঞ্জেলেসে ইফতার পার্টি প্রায় শেষ। বিএনপির দুই গ্রুপের ইফতারে ছিল হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। উভয় পক্ষই ইফতার পার্টিতে সমান সংক্ষক কমিউনিটির মানুষের সমাগম ঘটাতে সক্ষম হয়। বরাবরেরমত মুনা’র ইফতার ছিল সর্ববৃহৎ। ইফতার পার্টি যেন পিকনিকের মত, সামাজিক রেওয়াজ, কমিউনিটিতে তাদের প্রভাব বা অবস্থান তুলে ধরার দর্পণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই লস এঞ্জেলেসে।
আওয়ামী পরিবারের এক পক্ষের যুবলীগ একক ভাবে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্নিয়া প্রথম বারেরমত সামাজিকভাবে কমিউনিটির সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ব্যাপক আয়োজনে ইফতার পার্টি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকে স্থান সংকটের কারণে ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু আওয়ামী পরিবারের যুবলীগের অপর আরেক অংশ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ উক্ত আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করেনি।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগের ঐক্য প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতার কারণে স্টেস্ট আওয়ামী লীগের এই অংশটি ও স্বেচ্ছাসেব লীগের উপর সন্তুষ্টু নয়।
আওয়ামী লীগের ঐক্য প্রক্রিয়ায় তারা ব্যঘাত ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
এক অংশের যুবলীগের আহ্বায়ক সবর্ন নন্দী তাপসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। পরিবারের কাউকে বাইরে রেখে ঐক্যের প্রচেষ্টাকে আমরা প্রতিহত করি এবং প্রতিবাদ জানাই। যার কারণে এবং ফলস্বরুপ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি যৌথ উদ্দ্যোগে ইফতার পার্টি দিয়েছি।
অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহ আলম খান চৌধুরী বলেন, আমরা ডবল স্ট্যান্ডার্ডের রাজনীতি করি না। এক্ষেত্রে আমাদের দ্বন্দ্ব আছে।
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি কখনও এই অংশের যুবলীগকে স্বীকার করেনি। স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি তাপস নন্দী গ্রুপকে অবৈধ মনে করত বলে শোনা যায়।
পরষ্পর বিরোধী এই দুই গ্রুপ কাছাকাছি আসার প্রশ্নে জনৈক যুগ্ন আহ্বায়ক বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই।
অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া নর্থ হলিউডে প্রতিবারের মত ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে কমিউনিটির মানুষ সহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়ায় দুই আওয়ামী লীগ গ্রুপ সম্মেলনের মাধ্যমে মিমাংসার প্রচেষ্টা করছে। কিন্তু সহযোগী গ্রুপদের রেশারেশিতে উক্ত দুই গ্রুপের সঙ্গে মূল দলের দূরত্ব বেড়েছে।

অন্তদ্বন্দ্ব সমাধান ছাড়া লস এঞ্জেলেসে আওয়ামী পরিবারের মধ্যে অনৈক্য বিরাজ করবে। নেতৃবৃন্দ সহযোগী সংগঠনদের সাথে যদি বন্ধুত্বসুলভ আচরণ ও মনোভাব নিয়ে না বসেন এবং যুবলীগের দুটি গ্রুপকে একটির প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসেন তাহলে লস এঞ্জেলেসে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী হবে।
এ অবস্থায় যুবলীগের সিনিয়রদেরকে আওয়ামী লীগ অন্তভূক্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।