পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র যেন চাপ সৃষ্টি না করে অথবা সামরিক হুমকি না দেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে উত্তর কোরিয়া আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, এমন উসকানিমূলক বক্তব্য না দিতেও সতর্ক করছে পিয়ংইয়ং।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সময়-স্থান নির্ধারণ করা হয়ে গেছে এবং শিগগির তা জানানো হবে। উনকে এ বৈঠকে বসাতে পারার কৃতিত্বটা নিচ্ছেন ট্রাম্প নিজেই; কিন্তু এ ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ গতকাল রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছে, নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য চাপ উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দিকে নিয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বক্তব্য ‘জনমতকে বিভ্রান্ত করছে’। ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক ব্যবস্থাপনা বাড়িয়ে বিদ্যমান ইতিবাচক পরিবেশকে নষ্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পররাষ্ট্র কর্মকর্তার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে (উত্তর কোরিয়াকে) উসকানি দিচ্ছে, যখন উত্তর-দক্ষিণ সম্মেলন ও পানমুনজম ঘোষণার ফলে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি শান্তি ও সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অতিকষ্টে পাওয়া আলোচনার পরিবেশ ধ্বংস করা এবং পরিস্থিতিকে আবার অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি (উত্তর কোরিয়ার) শান্তিপ্রেমী অভিপ্রায়কে দুর্বলতা ভেবে ভুল করে এবং তাদের চাপ ও সামরিক হুমকি অব্যাহত রাখে, তাহলে সমস্যার সমাধানে সেটা কোনো কাজে আসবে না।’

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা গত বছর শুধুই বেড়েছে। এ বছরের প্রথম দিকেও পরিস্থিতি একই ছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পাইয়েওংচ্যাং অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জেরে গত ২৭ এপ্রিল উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মেলন হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে যাচ্ছে ট্রাম্প-উন বৈঠক। সত্যি সেটা ঘটলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম বৈঠক।

সূত্র : বিবিসি।