ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইম অ্যাকশনের (ডুমা) আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ৮ থেকে ১০ এপ্রিল এ উৎসব হবে। এ বছরের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নির্বাক শব্দেরা মুখরিত হোক মুক্তির আলোয় আলোয়’।

৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়

এবারের উৎসবে অংশ নিচ্ছে জাপান, আমেরিকান, ইরান, জার্মানি, নেপাল এবং ভারতের দুটি দল। এ ছাড়াও অংশ নেবে বাংলাদেশে মূকাভিনয় চর্চারত ১৫টি দল। সেগুলো হলো- স্বপ্নদল (ঢাকা), প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট (চট্টগ্রাম), মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল (গাজীপুর), রঙ্গন মাইম একাডেমি (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), মাইম আর্ট (ঢাকা), বেঙ্গল থিয়েটার (ঢাকা), সাইলেন্ট থিয়েটার (চট্টগ্রাম), মিরর মাইম থিয়েটার (রংপুর), বরিশাল বিএম কলেজ, কিশোরগঞ্জ মাইম থিয়েটার, ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার (ঢাকা), মাইম অ্যাকশন কক্সবাজার, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি মাইম সোসাইটি এবং মাইম অ্যাকশন ময়মনসিংহ, রংপুর কারমাইকেল কলেজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) থাকবে এ উৎসবের মূল আয়োজন। এ ছাড়াও সকাল ১০টায় এবং বিকাল চারটায় শহিদ মিনার, কার্জন হল, কলাভবন, শাহবাগসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই থাকবে রোড শো।

বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ভিন্ন আমেজে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো ট্রাকের মাধ্যমে উৎসবের আগের দশদিন ধরে চলছে রোড শো। তিন দিনের আয়োজনে থাকছে মূকাভিনয়ের ওপর কর্মশালা, সেমিনার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূকাভিনয় প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রদর্শনী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় প্রদর্শন করবেন আমেরিকান নিউ মাইম থিয়েটারের ডিরেক্টর কাজী মশহুরুল হুদা, ভারতের সোমা মাইম থিয়েটার, জার্মানির নিমো মাইম, রংপুরের মিরর মাইম থিয়েটার, জাপানের শিল্পীরা এবং আয়োজক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এ ছাড়া ওইদিন সকাল ১১টায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা মূকাভিনয়ের সাজে টিএসসিতে সচেতনতামূলক র‌্যালি করবে। এতে ৫০০-১ হাজার মানুষ মূকাভিনয় সাজে অংশ নেবে। এটি মূকাভিনয় সাজে গিনেস বুকে রেকর্ড করার টার্গেট নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।

৯ এপ্রিল যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। চিত্রনায়ক আকবর হোসাইন পাঠান (ফারুক) অতিথি হিসেবে মঞ্চে থাকবেন। এদিন মাইম পরিবেশন করবে ইরান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লিটল ড্রামা গ্রুপ, বাংলাদেশের স্বপ্নদল, মাইম আর্ট, মুক্তমঞ্চ নির্বাক দল, কিশোরগঞ্জ মাইম থিয়েটার এবং মাইম ট্রুপ।

১০ এপ্রিল সমাপনী দিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

এদিন প্রদর্শনীতে অংশ নেবে প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট, রঙ্গন মাইম একাডেমি, সাইলেন্ট থিয়েটার, বেঙ্গল থিয়েটার, ব্ল্যাকফ্লেইম, শ্রুতি মাইম থিয়েটার, ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। রাত ১০ টায় অংশগ্রহণকারী দল এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে আন্তর্জাতিক এ মূকাভিনয় উৎসব।

এবারের উৎসবের সার্বিক সহযোগিতা করার কথা জানালেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং আন্তর্জাতিক উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আন্তর্জাতিক এই উৎসব আয়োজন করছে। ইতোমধ্যে তারা দেশে-বিদেশে মূকাভিনয় অংশগ্রহণ এবং সুনাম অর্জন করেছে। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সাফল্যের সঙ্গে উৎসব সম্পন্ন করার জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি খায়রুল বাসার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই মূকাভিনয় উৎসব আমাদের অনেক আবেগ-অনুভূতির বিষয়। এই উৎসব বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরায় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ারুল হক সনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের পারস্পারিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে মূকাভিনয় শিল্পটি বাংলাদেশে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং আমাদের শিল্পীরা আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা পাবে। আগামী দিনে মাইম দিয়ে বিশ্বে সুনাম কুড়াবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’

২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ স্লোগান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর লোকমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে মূকাভিনয় সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। পথচলার মাত্র সাত বছরে সংগঠনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব আয়োজন সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও জেলা শহরে ৪০০টির মতো মূকাভিনয় প্রদর্শনী করেছে। একই সঙ্গে পুরস্কৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।