বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স সাইট আমাজনের ওপর আবারও নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনেকদিন থেকেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন যে, আমাজনের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগ।

গতকাল শনিবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আমরা যখন উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি তখন জানতে পারলাম আমাজনের একটি পার্সেল ডেলিভারি দেওয়ার কারণে গড়ে প্রতি পার্সেলে দেড় ডলার করে ক্ষতি হবে ডাক বিভাগের। বছরে যার হিসেব কয়েক বিলিয়ন ডলার।

দেশের পোস্ট অফিস বিভাগের সঙ্গে আমাজন প্রতারণা করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগ যদি তাদের পার্সেল ডেলিভারির খরচ বাড়ায় তাহলে আমাজনের বাৎসরিক খরচ বৃদ্ধি পাবে প্রায় দুই দশমিক ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ডাক বিভাগের সঙ্গে প্রতারণায় আমাজনকে ওয়াশিংটন পোস্ট মদদ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাজনে তদবির করা কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে এই ধরণের প্রতারণা বন্ধ করতেই হবে। আমাজনকে সঠিক পরিমাণে সেবার মূল্য এবং কর দিতে হবে।

দেশটির ডাক বিভাগ সেবা পার্সেল ডেলিভারিতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে তাদের চিঠি বিতরণ সেবায় লাভ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের পার্সেল ডেলিভারি করে ওই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কথা ডাক বিভাগের।

দেশটির ডাক বিভাগ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ পোস্টাল রেগুলেটরি কমিশন প্যাকেজ ডেলিভারির খরচ নির্ধারণ করেছে শতকরা সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

এরপর থেকে ডাক বিভাগের এই সেবাটি জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করে। তবে ২০১৫ সালে ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস কমিশনের কাছে দাবি করে যে, পার্সেল ডেলিভারির ফি হওয়া উচিৎ ২৪ দশমিক ছয় শতাংশ।

তবে অনেক অর্থনীতিবীদই মনে করেন যে, ডাক বিভাগের আর্থিক ক্ষতির নেপথ্যে ডাক বিভাগই দায়ী। সরকারি এই সংস্থাটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ভাতার জন্য একটি বড় আর্থিক বরাদ্দ রাখতে হয়। বিভাগের বেশিরভাগ টাকা এখানেই ব্যয় হয়।

আমাজনের সঙ্গে ডাক বিভাগের লেনদেন

সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আমাজন অনেক পার্সেল তাদেরকে গ্রাহকদের কাছে পাঠিয়ে থাকেন। এমনকি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রোববারও আমাজনের জন্য সেবা দেয় ডাক বিভাগ। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো পার্সেল থাকায় অন্যসব গ্রাহকদের থেকে তুলনামূলক অনেক কম মূল্যে আমাজনের পার্সেল ডেলিভারি করে ডাক বিভাগ।

তবে পার্সেল ডেলিভারির এই মূল্য কোনো  পক্ষ প্রকাশ না করলেও ডাক বিভাগ বলছে যে, আমাজনের সঙ্গে তাদের চুক্তি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক।

এদিকে আমাজন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যেগুলোকে সঠিক কর দেয় না বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাজনের কারণে অনেক খুচরা ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে আমাজনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়। আমাজনের ‘তদবিরকারী’ হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্টের সমালোচনাও করে আসছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, আমাজন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট দুইটি প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। তবে প্রতিষ্ঠান দুইটির একে অপরের মধ্যে কোন মালিকানা নেই।