কাজী মশহুরুল হুদা :

গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় লিটল বাংলাদেশস্থ হারবার্ড এলিমেন্টরী স্কুল মিলনায়তনে লষ এঞ্জেলেস সিটির নেবারহুড এম্পাওয়ারমেন্ট বিভাগের বোর্ড অব নেবারহুড কমিশনারস্ কতৃক নেবারহুড কাউন্সেল সাবডিভিশন প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। বিষয় অবস্থানের উপর ভিত্তি করে উইলশ্যায়ার সেন্টার কোরিয়া টাউন নেবারহুড কাউন্সেলকে লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সিল সাবডিভিশনে বিভক্ত করণ। টাউন হল মিটিং এ বাংলাদেশ কমিউনিটি, করিয়ান কমিউনিটিসহ অন্যান্য কমিউনিটির মানুষ উপস্থিত ছিল।

বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষে সর্ব প্রথম বক্তব্য রাখেন বর্তমান উইলশ্যায়ার সেন্টার কোরিয়া টাউন নেবারহুড কাউন্সেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরিন ইসলাম। তিনি অত্যান্ত মার্জিত ও সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে কমিশনারদের সামনে লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেলের প্রয়োজনিয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেই সঙ্গে আরও উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন- মমিনুল হক বাচ্চু, শামিম হোসেন, মুজিব সিদ্দিকী, ওমর হুদা, ইউনূস জামান, শহিদুল ইসলাম, জিবরান, ফয়সাল আহমেদ তুহিন, ফারাহ সাঈদ সহ আরও অনেকে।

এছাড়া কমিউনিটির পক্ষ থেকে আরও অনেকেই বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক কথা কমিউনিটির মান ক্ষুন্ন করেছে বলে উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেছেন। অনেকেই লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেল সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা না নিয়েই বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলাতে বিষয়টা তিক্ততায় পরিণত হয়ছে। লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেল মূলত : নামকরণ মাত্র। কারণ যে বাউন্ডারির সীমারেখা প্রণয়ন করা হয়েছে সেখানে শুধু বাংলাদেশের মানুষই বসবাস করে না। অন্যান্য কমিউনিটির মানুষও বসবাস করে। এই বিষয়টি অনেকেই ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশকেই টেনে এনে কথা বলেছেন। এধরণের টাউন হল মিটিং এ নিদৃষ্ট ব্যাক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করলে আরও ভালো হত বলে উপস্থিত কমিউনিটির মানুষ মনে করেন।

উক্ত টাউন হল মিটিং এ ডিভিশন ডিভাইডেট নয়, এলাকার ডাইভারসিটি, উন্নয়ন এই বক্তব্যের ভিত্তিতে অন্যান্য কমিউনিটির মানুষ তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেল প্রনয়ণের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। কোরিয়ান কমিউনিটির বক্তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নেবারহুড কাউন্সেলের পক্ষে বক্তব্য দেন। স্থানীয় কোরিয়ান কমিউনিটির পত্রিকার সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, কোরিয়ান কমিউনিটি দীর্ঘকাল যাবত অবস্থানের মাধ্যমে কোরিয়ান টাউন গড়ে তুলেছে। সে ক্ষেত্রে লিটল বাংলাদেশের জন্য এ ধরণের প্রাপ্তির প্রত্যাশা যথার্থ নয়। ঠিক তখন জনাব মুজিব সিদ্দিকী উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে প্রস্তবিত লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেলের পক্ষে সমর্থন জানাতে বললে প্রায় ৯০% লোক উঠে দাঁড়িয়ে সমর্থন করে।

নেবারহুড কাউন্সেলের বোর্ড অব কমিশনারবৃন্দ বলেন, টাউন হল মিটিং এর মাধ্যমে তারা আবেদন সম্পর্কে একটা ধারণা নিচ্ছেন এবং আগামী ৫ দিনের (বিজনেস ডে) মধ্যে তারা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হবেন। যদি কমিশনার কতৃক আবেদনপত্র অনুমোদন হয় তাহলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে হ্যাঁ/না ভোটের ব্যবস্থা করবে কমিশন। ভোটে যদি হ্যাঁ এর পক্ষে অধিক ভোট পড়ে তাহলে নতুন ৯৬তম লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেল গঠিত হবে।

ডিরেক্টর অব পলিসি এণ্ড গভারমেন্ট রিলেশনস (ডিপার্টমেন্ট অব নেবারহুড এম্পাওয়ার মেন্ট) মাইক ফং জানান যে, সবডিভিশন নির্বাচনের পূর্বে ৩টি কমিউনিটি ইনফরমেশন সেশন হবে। তার ২টি সেশন হবে প্রস্তাবিত নতুন নেবারহুড কাউন্সেলের মধ্যে। এবং একটি হবে প্রস্তবিত সীমারেখার বাইরে।

তিনি আরও জানান, কমিশনারদের অনুমোদন হলে সাবডিভিশন ইলেকশন মে মাসের শেষ দিকে অথবা জুনের প্রথম দিকে হতে পারে।

সিটি কাউন্সেল নির্বাচনে অনলাইন ভোটের ব্যাবস্থা রাখার অনুরোধ জানালে বলেন- আমাদের এধরণের কোন পরিকল্পনা নেই। তবে আমরা সিটি ক্লার্ক এর সাথে আলোচনা করে দেখব তার পরিবর্তে ডাক যোগে ভোট দেওয়ার ব্যাবস্থা করা যায় কি না।

প্রধান আবেদনকারী মারুফ ইসলাম বলেন, টাউন হল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তাবিত বিভিশনের ৮০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার ধারণা কমিশনার নির্বাচনের পক্ষে ই রায় দিবে। কারণ ডিভিশনের বিপক্ষে যারা কথা বলেছেন তারা যুক্তিযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়েছে।

আমরা আশাবাদী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী ফলাফল জানাতে পারব। যদি হ্যাঁ/না ভোট হয় তখন সকল কমিউনিটিকে একযোগে ভোট সংগ্রহে নেমে যেতে হবে। তাছাড়া আর কোন গতি থাকবে না।

মনে রাখতে হবে লিটল বাংলাদেশ নেবারহুড কাউন্সেল প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানে মূলধারার প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে কমিউনিটির কথা বলার একটা সুযোগ। যে সুযোগ আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য ব্রীজ তৈরি হবে। জেরিন, জিবরানদের মত নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটির জন্য সিটি হলের রাস্তা তৈরি করবে। যা আগামীর পথ প্রসস্ত করবে। সুযোগ্য কন্যা জেরিনের নেতৃত্বে লিটল বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। জেরিন তুমি এগিয়ে চল। আমরা আছি তোমার সাথে।