অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ আনা হয়েছে। শনিবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের চিকিৎসার জন্য সিলেট থেকে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হচ্ছে। এর আগে ছুরিকাঘাতে আহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘদিন ধরেই মৌলবাদীদের হুমকির মধ্যে থাকা দেশবরেণ্য এ অধ্যাপকের ওপর শনিবার বিকেলে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলা চালানো হয়। পেছন থেকে তার মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৮৮ তে বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) এ গবেষক হিসাবে যোগ দেন জাফর ইকবাল। কিন্তু দেশের টানে তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবাকে হারানো জাফর ইকবাল বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক হুমায়ূন আহমেদের ভাই।

ভাইয়ের মতো জাফর ইকবালও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে লেখালেখি করেছেন সব সময়। আর লেখনির কারণে তিনি বারবার রোষানলে পড়েছেন উগ্রবাদীদের। তার ওপর হামলার হুমকি দিয়ে ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে এসএমএমও পাঠানো হয়। ওই বছরেই জাফর ইকবালের নিরাপত্তায় পুলিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি সে নিরাপত্তা পরে ফিরিয়ে দেন। ২০১৫ সালে শাবিপ্রবিতে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে সস্ত্রীক সক্রিয় ছিলেন তিনি।সেসময় তার স্ত্রীসহ অন্য শিক্ষকরা ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন।