কাজী মশহুরুল হুদা :
দেশ ছেড়ে যখন মানুষ পরবাসে যায়, সেখানে ভরসা হিসেবে থাকে স্বদেশী মানুষ। স্বাধীনতার পর আমেরিকায় নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস সহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রদেশে প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করেন।
ওপি-১ সহ ডিভি’তে এদেশে এসেছেন বহু মানুষ। তারা কোন না কোনভাবে প্রবাসীদের সহায়তায় জীবিকার সন্ধান করে নিয়েছেন। অগ্রজ প্রবাসীদের মধ্যে অনেকের নাম আসে। আমি এখানে একজনের কথা উল্লেখ করব। যিনি মোহাম্মদ বাবুল হোসেন। ডিবি নিয়ে ২০০১ সালে এদেশে পাড়ি জমিয়ে লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন।

মোহম্মদ আশরাফ হোসেন বাবুল মানিকগঞ্জের সিংগড়াই অঞ্চলের মানুষ। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তথাপি তিনি এখানে আসার পর নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন পরিশ্রমের মাধ্যমে। তিনি নি:স্বার্থভাবে আগতদের কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অনেকের সমর্থ থাকার পরেও এই কাজটি করার মানষিকতা নেই। মুষ্টিমেয় ব্যাক্তিবর্গ এই প্রবাসে দু:সময়ে প্রবাসীদের পােশে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে বাবুল অন্যতম।
প্রবাসে অবসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মহৎ কাজ কি আর হতে পারে?
বাবুল উত্তরণ সাংস্কৃতিক গোষ্টির মাধ্যমে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। বাফলার সাথে জড়িত থেকে এবং মানিকগঞ্জ সমিতির সদস্য শ্রম ও অর্থ দিয়ে কমিউনিটির মানুষ ও কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকেন।
বাবুলদের মত মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের সহায়তায় প্রবাসে চাকরি, পরমর্শ ও আর্থিক সহায়তায় কমিউনিটির অনেক মানুষ উপকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রবাসে এধরণের মানুষ বেশি প্রয়োজন।

নি:স্বার্থ ভাবে বিদেশ বিভূয়ে অন্যের উপকার বিরল। স্ত্রী সহ দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন তিনি। স্ত্রী কেএফসি’র ম্যানেজার। বাবুল সবার কাছে ঝাল-মুড়ি বাবুল হিসেবে সুপরিচিত। এর অবশ্য একটা কারণও আছে। যদিও এটা গর্বের। প্রবাসে স্থানীয় পর্যায়ে বড় কোন অনুষ্ঠান হলে বাবুল সেখানে ঝাল-মুড়ির স্টল দিয়ে বসেন। স্বল্প অর্থায়নে খাবার ক্যাডারিং এ ও তার সুনাম রয়েছে। চমৎকার রান্নাও করেন তিনি।
চাকুরিজীবী বাবুল সব ব্যস্ততার মাঝে প্রতি সপ্তাহে ৮/১০ জন স্থানীয় হোমলেসদের খাদ্য বিতরণ করে আসছেন। এটা বাবুলের মহানুভবতার পরিচয়।
আগামীতে প্রবাস কলামে এমনইভাবে প্রবাসী সফল ও নি:স্বার্থ মানবপ্রেমী বন্ধুদের তুলে ধরার চেষ্টা করবো। যারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কমিউনিটির মানুষদের উপকারে এগিয়ে আসেন।
এমনকি কোন প্রবাসী বন্ধু যদি এমন সব মানুষের সন্ধান জেনে থাকেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা এসব সাদা মনের মানুষদেরকে সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।
মানবতার জয় হোক। হুদা শান্তি, শান্তি, শান্তি।