বলিউডে ইন্দ্রপতন! প্রয়াত শ্রীদেবী! মাত্র ৫৪ বছরেই এই নক্ষত্রকে হারালো বলিউড। দুবাইতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্বামী বনি কাপূর মেয়ে খুশি। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুবাইতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

এককালে বলিউডের এই হট গ্ল্যামার-কোশেন্ট সংসার সামলেও সেকেন্ড ইনিংসে দাপিয়ে কামব্যাক করেছেন। ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে জিতে নিয়েছেন কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়। অসংখ্য সিনেমাতে রূপ-গ্ল্যামার এবং অভিনয় দক্ষতায় নজর কেড়েছেন শ্রীদেবী। শুধুমাত্র হিন্দি সিনেমাতেই নয়, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়— প্রায় পাঁচ দশক ধরে সব ক’টি ইন্ডাস্ট্রিতেই নিজের ছাপ রেখে গেছেন তিনি। শ্রীদেবীর অসংখ্য কাজ রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি ভক্ত হৃদয়ে হাজার বছর বেঁচে থাকবেন। এমন কিছু বিখ্যাত সিনেমা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিবেদন-

সদমা (১৯৮৩)

ত্যাগরাজনের প্রযোজনায় এবং বালু মহেন্দ্র-র পরিচালনায় ১৯৮৩ সালে তৈরি হয় সদমা সিনেমা। শৈশবে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়া এক মেয়ের চরিত্রে দেখা যায় তাকে। শ্রীদেবী এবং কমল হাসন অভিনীত এই সিনেমাটি বলিউডে ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্রের তকমা পায়।

নাগিনা (১৯৮৬)

এক ইচ্ছাধারী নাগিনের চরিত্রে শ্রীদেবীর অসাধারণ অভিনয় মুগ্ধ করেছিল দর্শককে। অমরিশ পুরীর বীণের তালে তালে ‘ম্যায় তেরা দুশমন’ গান এখনও লোকের মুখে মুখে শোনা যায়।

ইংলিশ ভিংলিশ (২০১২)

বিয়ের পর অভিনেত্রীদের সেকেন্ড ইনিংস নাকি তেমন সফল হয় না। এই মিথকে ভেঙেছেন মিস ‘হাওয়া হাওয়াই’। ২০১২-য় মুক্তিপ্রাপ্ত গৌরী শিন্ডের ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ সিনেমাতে ‘শশী’ চরিত্রে শ্রীদেবীর অভিনয় মাতিয়ে দিয়েছিল সিনেপ্রেমীদের। বক্স অফিসে চূড়ান্ত সাফল্য পায় এই সিনেমাটি।

মিস্টার ইন্ডিয়া (১৯৮৭)

৮০’র দশকে বক্স অফিস কাঁপানো সিনেমা ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। সেই সময় দাঁড়িয়ে শেখর কপূরের সিনেমাটির কনসেপ্ট দর্শকমহলে খুবই জনপ্রিয় হয়।

চাঁদনী (১৯৮৯)

যশ চোপড়ার ‘চাঁদনী’ এক সময় বক্স অফিসে সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। পর্দায় ঋষি কপূর এবং শ্রীদেবীর রোম্যান্স মুগ্ধ করেছিল আট থেকে আশিকে।

চালবাজ (১৯৮৯)

পঙ্কজ পরাশর পরিচালিত ‘চালবাজ’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। সিনেমাটিতে ‘অঞ্জু’ এবং ‘মঞ্জু’ নামে যমজ বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় শ্রীদেবীকে। সিনেমাটিতে একই সঙ্গে দু’টি ভিন্ন চরিত্রের স্বাদ এনে দেন শ্রীদেবী।

খুদা গাওয়া (১৯৯২)

অমিতাভ বাচ্চন ও শ্রীদেবী অভিনীত ‘খুদা গাওয়া’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। নাজির আহমদ এবং মনোজ দেশাইয়ের ‘খুদা গাওয়া’ বক্স অফিসে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিল।

লমহে (১৯৯১)

‘লমহে’তে শ্রীদেবী ও অনিল কপূরের অনস্ক্রিন রোম্যান্স পছন্দ করেছিলেন দর্শকরা। যদিও এই সিনেমাতে শ্রীদেবীর বিপরীতে অভিনয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁর রিয়েল লাইফ পার্টনার বনি কপূরকে। সিনেমাটি দুর্দান্ত সাফল্য পায় বক্স অফিসে।

জুদাই (১৯৯৭)

রাজ কানওয়ারের ‘জুদাই’ সিনেমাতে এক লোভী গৃহবধূর চরিত্রে শ্রীদেবীর অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। সিনেমাটিতে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় শ্রীদেবীকে।

মম (২০১৭)

কামব্যাকের পর শ্রীদেবী অভিনীত সেরা সিনেমাগুলোর একটি রবি উদিয়া পরিচালিত ‘মম’। সিনেমাটি সন্তানের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে একজন মায়ের লড়াইয়ের কাহিনি। মায়ের ভূমিকায় শ্রীদেবীর অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শককে।