নাহিদ হাসান রুবেল :

লস এঞ্জেলেস সহ সারা মার্কিন মুল্লুকে ও বাংলাদেশে আলোচনায় রয়েছে কনস্যুলেট জেনারেল লস এঞ্জেলেস অফিসে মহান একুশের অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ন্যাক্কারজনক ঘটনা। যে ঘটনার ভাইরাল ভিডিও ঘুরপাক খাচ্ছে ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল ডিভাইস মোবাইল ফোনে ফেসবুকের কল্যানে।
একজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক কাজী মশহুরুল হুদা ভাই ভিডিওটি ভাইরাল করলেন তার নিজস্ব সংবাদ পেজের মাধ্যমে। হ্যাঁ অবশ্যই এটা তার সাংবাদিকতার নীতিগত দায়িত্ব। যদিও ভিডিওটি কভারেজ নিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে ঘটনা সূত্রপাতের শুরুটা ভিডিও তে নেই। আমার প্রশ্ন হলো যখন আমি সাংবাদিক হিসেবে আমার নৈতিকতার প্রশ্নে ভিডিওটি ভাইরাল করলাম আমার কি উচিত ছিল না কেন? কি কারণে ঘটনাটি ঘটল? তার আদ্যোপান্ত ভিডিওটির সাথে তুলে ধরা? যাতে করে সাধারণ জনগন ভিডিওটি দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে বুঝতে সক্ষম হত আসলে সেখানে কি হয়েছিল। নাকি কোনও ব্যক্তি বা দলের উপর দোষ চাপাতেই ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা হয়েছে।

একজন ক্ষুদ্র সাংবাদিক হয়ে শ্রদ্ধার সাথে প্রশ্ন রাখতে চাই- এটা কি আপনার নীতিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? যদিও বা পত্রিকায় সত্যের আলোকে সংবাদ এসেছে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক পর। অপর আরেক রবি গ্রুপের সাংবাদিক জাহান হাসান তিনি ঘটনাস্হলে উপস্হিত না থেকে পক্ষপাতিত মূলক সংবাদ পরিবেশন করলেন। তিনি সোহেল রহমান বাদলের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। রবির দোসর আল মামুনের কথাও ভুলে গিয়ে সব দোষ নন্দ ঘোষের উপর দিয়ে দিলেন, অর্থাৎ যুবলীগ কর্মীর উপর চালিয়ে দিলে, যেমনটিভাবে রবি গ্রুপ তাকে বলে দিলেন। এখন আসল ঘটনায় যাওয়া যাক, কি হয়েছিল কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে?

বক্তব্যে সুযোগ না দেয়াকে কেন্দ্র করে কনস্যুলেট জেনারেলের অনুমতি সাপেক্ষে সিটি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাকির খান উপস্হিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুস্তাইন দারা বিল্লাহ ও ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযাদ্ধা মিয়া আব্দুর রব কে প্রশ্ন রেখে বলেন কেনও তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলোনা তার কি কোনও অবদান নেই আওয়ামী লীগে? মুস্তাইন দারা বিল্লাহ দাড়িয়ে জাকির খানের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উওর দেন তার মত করে। জাকির খানকে প্রশ্ন করা হলো আপনি খুশি কি না?

জাকির খান তার চেয়ারে বসে উওর দিলেন দারা ভাইয়ের উওরে আমি খুশি না। কোনও উত্তেজনা ছিলনা কিছু হওয়ার মত পরিবেশও ছিলনা। সবাই চুপচাপ যার যার অবস্হানে বসে ছিলেন। হঠাৎ করেই মুস্তাইন দারা বিল্লাহর পার্শ্বের সিট থেকে দাড়িয়ে পড়লেন সোহেল রহমান বাদল। কে এই সোহেল রহমান বাদল কমবেশি সবারই জানার কথা। নিজ মুখে সে বলে স্হানীয় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। যদিও বা বর্তমান আওয়ামী লীগ নেত্রীবৃন্দ বলেন প্রতিষ্ঠাতা না কিন্তু সাবেক সভাপতি। বর্তমানে কোনও পদ পদবীও নেই। আমি যতদুর জানি ২০০৮ সালের পর থেকে সে আওয়ামী লীগের কোনও পদ ধারণ করে না। না থাকলেও স্হানীয় আওয়ামী লীগের বিভক্তির কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রুপের সাথে লেগে থাকে হয়তো নতুন করে পদ পদবী পাবার আশায় কিংবা দলের প্রতি অজস্র মমতা আর ভালোবাসায়।

যাই হোক আসল কথায় ফিরি, সোহেল রহমান দাড়িয়ে জাকির খানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্হিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করলে যুবলীগের এক কর্মি তাকে থামতে বলেন। বলেন নতুন করে আপনি কেনও পরিবেশ ঘোলাটে করতে চাচ্ছেন। যুবলীগ কর্মি বলা শেষ করতে না করতেই সোহেল রহমান বাদলে যুবলীগ কর্মির দিকে তেড়ে আসেন আর গালাগালি শুরু করেন এই শুয়োরের বাচ্চা তুই চুপ কর। শুধু একবার নয় অনেকবারই বাদল গালিটা দিয়েছেন যুবলীগ কর্মিকে যা ইতিমধ্যে ভাইরাল ভিডিওর কল্যাণে আপনারা অবগত আছেন।

সুপ্রিয় সুশীল সমাজ, আপনারা যারা ঘটনার আদ্যোপান্ত না জেনে ভাইরাল ভিডিওর উপর আপনাদের সুশীল মনোভাব কমেন্ট করছেন প্রশ্ন রাখতে চাই আপনি কি করতেন এমন একটি গালি যদি আপনাকে দেয়া হতো? হয়তো আপনি চুপচাপ বসে থাকতে পারতেন কিন্তু আমি পারব না কারণ আমি আমার মৃত বাবা মার ঔরসজাত সন্তান। আমার মা শুয়োরের কাছে রাত কাটিয়ে আমাকে পৃথিবীর আলো দেখাইনি। আমার বাবা কোনও শুয়োর না আপনার আমার মত একজন মানুষ ছিলেন।

সুপ্রিয় বিরোধী দল সমর্থক বন্ধুরা, আপনারা যারা ফুর্তিতে লাফালাফি করে লাগামহীন কমেন্ট করছেন বিরোধিতা করার স্বার্থে অথবা ভিডিওটি শেয়ার করছেন আপনাদের কাছে একই প্রশ্ন রাখলাম আপনারা কি করতেন যদি আপনার বাবা মাকে নিয়ে গালি দেয়া হত? আপনি চুপচাপ বসে থাকলেও আমি কিন্তু পারতাম না কারণ আমি আমার বাবা মার ঔরসজাত সন্তান। আমার বাবা মাকে গালি দিয়ে কথা বললে আমি আপোষ করার ব্যক্তি না।আমি নিশ্চুপ বসে থাকা মানে আমি স্বীকার করে নিলাম আমি শুয়োরের বাচ্চা। যেটা মেনে না নিতে পারার কারণেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

যেখানে মারামারিও হয়নি কাটাকাটিও হয়নি। শুধু এমন একটা বেয়াদব কে কনস্যুলেট অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে যে জানেনা সন্তানতুল্য ছেলেপেলেদের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হয়। আপনারা যারা এই ভিডিওটিকে কাজে লাগিয়ে উল্টা পাল্টা কমেন্ট করছেন দলীয়ভাবে একটা দলকে হেয় করতে (কাউয়ালীগ, মুরগীলীগ, অমুকলীগ, তমুকলীগ) তাদের জ্ঞাতার্থে আবারও বলতে চাই এটা সম্পূর্ণ একটা অরাজনৈতিক ঝামেলা ছিল? যেটা ব্যক্তি বিশেষকে অশালীন ভাষায় গালাগালিকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগে গ্রুপিং আছে সত্য কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগে আমার জানামতে এমনটি কখনও দেখিনি। একে অপরের নামে নালিশ আর পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবেন বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের গ্রুপিং নেই কোথাই? স্থানীয় বিএনপির প্রকাশ্য দুটি গ্রুপ বিদ্যমান।

বুকে হাত দিয়ে কেউ কি স্বীকার করবেন নিজেদের ভিতরে পদ পদবী কোন্দলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কি বেহাল দশা। আশা করব আপনারা সবাই সত্য ও সঠিক তথ্যটি জানার চেষ্টা করবেন।