রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য আরও ১ কোটি ২০ লাখ সুইস ফ্রাংক (প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি হবে গত অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সাহায্য হিসেবে সুইজারল্যান্ড প্রতিশ্রুত ৮০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে একথা বলেন সুইস প্রেসিডেন্ট। খবর বাসসের

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রতি সংহতি, সহায়তা এবং সুরক্ষা প্রদানের জন্য জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন সুইস প্রেসিডেন্ট। বেরসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনের জন্য সম্পাদিত চুক্তিকে সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কার্যকরী পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে এ বিষয়ে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন ও একইসঙ্গে নেপিদোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছি আমরা এবং আমি সুইস প্রেসিডেন্টকে বলেছি এই সমস্যার গোড়া রয়েছে মিয়ানমারে, কাজেই এর সমাধানও সেখান থেকেই খুঁজে বের করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি এক্ষেত্রে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ ও অবিলম্বে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। কারণ এটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সফলভাবে নিজ দেশের বাড়িঘরে প্রত্যাবাসন এবং তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে ও এর বাইরেও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডও সংকটের শান্তিপূর্ণ দ্রুত সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুইস প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে’র মধ্যে একান্ত বৈঠকের পর বিকেলে দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের টাইগার গেটে ফুলের তোড়া দিয়ে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান।

বেরসে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে চার দিনের সরকারি সফরে রোববার ঢাকা পৌঁছান।

সুইজারল্যান্ড ১৯৭২ সালের ১৩ মার্চ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন এই সফরের লক্ষ্য বলে সুইস দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

রোববার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সুইস প্রেসিডেন্টের সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এর আগে সুইস প্রেসিডেন্ট সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সুইস প্রেসিডেন্ট সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বেরসে মঙ্গলবার কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।

সুইস প্রেসিডেন্ট সুশীল সমাজ ও বাংলাদেশে কর্মরত সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি ঢাকা আর্ট সামিটও পরিদর্শন করবেন। এই সামিটের পার্টনার হচ্ছে সুইজাল্যান্ডের আর্ট কাউন্সিল ‘প্রো হেলভেসিয়া’।

বেরসে বুধবার তার সফর শেষে দেশে ফিরবেন।